তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) ২০২৪: বর্তমান চিত্র ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
Daily Somoy Sangbad
November 12, 2024
২০২৪ সালে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিশ্বব্যাপী এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে, যা সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ব্যবসা, এমনকি ব্যক্তিগত জীবনে আইসিটির প্রভাব দিন দিন বেড়েই চলেছে। বর্তমানের কিছু বড় ICT ট্রেন্ড, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং এর সামগ্রিক প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
১. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং এর অভূতপূর্ব অগ্রগতি
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং মেশিন লার্নিং (ML) এখন কেবল গবেষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি প্রতিটি খাতে ব্যবহৃত এক অপরিহার্য প্রযুক্তি। যেমন, পণ্য ক্রয়, কাস্টমার সার্ভিস , এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় AI বিশাল ভূমিকা পালন করছে।
- বাংলাদেশেও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন সিদ্ধান্ত গ্রহণে মেশিন লার্নিং ভিত্তিক ডেটা অ্যানালাইসিস ব্যবহার করছে, যা উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করছে এবং খরচ কমাচ্ছে।
২. ৫জি এবং সংযোগের নতুন যুগ
- বিশ্বব্যাপী ৫জি নেটওয়ার্ক চালু হওয়ায় ইন্টারনেটের গতি ও সেবা অনেক উন্নত হয়েছে। এই প্রযুক্তি কম সময়ে অনেক বেশি ডেটা আদান-প্রদানে সহায়তা করছে।
- ৫জি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে "ইন্টারনেট অফ থিংস" (IoT) আরও শক্তিশালী হয়েছে, যা স্মার্ট সিটি, স্বয়ংক্রিয় যানবাহন, এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা চালু করার পথ সুগম করেছে।
- বাংলাদেশেও ৫জি প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৩. ইন্টারনেট অফ থিংস (IoT)-এর প্রসার ও প্রভাব
- IoT এখন কেবল বাড়ির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি এখন শিল্প খাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শিল্প খাতে IoT ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন প্রক্রিয়ার উন্নতি এবং পূর্বাভাসমূলক রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
- কৃষি খাতে IoT ডিভাইসের ব্যবহার বাড়ছে, যা স্মার্ট ফার্মিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করছে। ফসলের মান বৃদ্ধি ও খরচ কমাতে কৃষকদের সহায়তা করছে।
৪. সাইবার নিরাপত্তা ও ডেটা গোপনীয়তা
- ডিজিটালাইজেশনের এই যুগে সাইবার নিরাপত্তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্বব্যাপী সাইবার আক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে এবং ব্যক্তিগত ও সংস্থাগত তথ্য সুরক্ষার জন্য নতুন নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
- AI নির্ভর থ্রেট ডিটেকশন, ব্লকচেইন, এবং মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন সাইবার নিরাপত্তার শক্তিশালী ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
- ডেটা গোপনীয়তা রক্ষায় সরকার বিভিন্ন ধরনের নিয়ম-কানুন প্রণয়ন করছে, যা গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন উন্নত করা হয়েছে।
৫. ক্লাউড কম্পিউটিং ও এজ কম্পিউটিং এর চাহিদা
- ক্লাউড কম্পিউটিং বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় এবং এটি অনেক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের খরচ কমানোর পাশাপাশি কাজের গতি বাড়াচ্ছে।
- এজ কম্পিউটিং-এর মাধ্যমে ডেটা উৎপত্তিস্থলেই প্রসেস করা হয়, যা দ্রুত ডেটা প্রক্রিয়াকরণ এবং উচ্চতর কর্মক্ষমতা নিশ্চিত করছে।
আইসিটি বাংলাদেশের জন্য ব্যাপক সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও অবকাঠামো নিশ্চিত করতে পারলে আইসিটি খাত থেকে বাংলাদেশ বিশাল আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়নের সুযোগ পাবে। সরকারের সঠিক উদ্যোগ, শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির সংযুক্তি, এবং গবেষণার প্রসার আইসিটি সেক্টরকে আরও এগিয়ে নিতে পারে।
Share This