ভোরের আলো তখনও ফোটেনি। চিরচেনা যানজটের শহরেও নেই তেমন লোকজন। তবু কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অঙ্গন। বাড়তি সতর্কতায় পুলিশ-র্যাব, বিজিবি-সেনাবাহিনী। পথে পথে তল্লাশি চৌকি। ভোর থেকে এমন কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই সকাল সৌয়া ৭টায় ট্রাইব্যুনালের ফটকে ঢোকে বাংলাদেশ জেল-প্রিজন ভ্যান লেখা সবুজ রঙের গাড়ি। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এ গাড়িতে করেই ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে।
আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে টিএফআই-জেআইসি সেলে গুম-খুন ও জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক মামলায় মোট ৩২ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের দিন ধার্য ছিল বুধবার। সে মোতাবেক হেফাজতে থাকা ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।
এদিন সকাল সাড়ে ৭টায় প্রিজনভ্যান থেকে নামিয়ে একে একে সবাইকে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় নিয়ে যান পুলিশ সদস্যরা। ৮টা ১০ মিনিটে তাদের এজলাসকক্ষে তোলা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই এসব মামলায় দাখিলকৃত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি শুরুর কথা রয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে।
ট্রাইব্যুনালে আনা সেনা কর্মকর্তারা হলেন— ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, মেজর জেনারেল মোস্তফা সরোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম, কর্নেল মশিউল রহমান জুয়েল, লে. কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, মেজর জেনারেল কবির আহম্মেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী ও লে. কর্নেল মখচুরুল হক (অব)।
সেনা কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির ঘিরে রাজধানীর কাকরাইল, মৎস্য ভবন, পল্টনসহ বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ভোর থেকেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয় ট্রাইব্যুনালসহ হাইকোর্টের মাজারগেট এলাকায়। এখানে পুলিশ-র্যাবের পাশাপাশি বিজিবি-সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও দেখা গেছে। সবমিলিয়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেছিলেন, হেফাজতে থাকা সেনা কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজিরের দিন ধার্য রয়েছে। তবে না এলে তাদের হাজির হতে দুটি সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। আর যদি হাজির হন এবং ট্রাইব্যুনাল জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন, তাহলে কোন কারাগারে থাকবেন তা সিদ্ধান্ত নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে কারা কর্তৃপক্ষ।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর আমলে নেওয়ার জন্য শুনানি শুরু হয় ট্রাইব্যুনালে। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচারের মুখোমুখি করার আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে অভিযোগ আমলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারিসহ আজকের মধ্যে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়।