ভুল ঠিকানায় নোটিশ, ভোক্তা অধিকার ফাউন্ডেশনের নিবন্ধন বাতিলের অভিযোগ!

ভুল ঠিকানায় নোটিশ, ভোক্তা অধিকার ফাউন্ডেশনের নিবন্ধন বাতিলের অভিযোগ!

নিজস্ব প্রতিবেদক : October 14, 2026

প্রকৃত কার্যালয়ের পরিবর্তে ভুল ঠিকানায় কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই ‘বাংলাদেশ ক্রেতা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ফাউন্ডেশন’-এর নিবন্ধন বাতিলের অভিযোগ উঠেছে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের (আরজেএসসি) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সংগঠনটির নিবন্ধন পুনর্বহালের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা না হলে হাইকোর্টে রিট আবেদনসহ কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

 

গত ১১ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. কামরুল আলম (কামাল) সংগঠনটির চেয়ারম্যান মো. নূর ইসলামের পক্ষে এ আইনি নোটিশ পাঠান।

 

ভুল ঠিকানায় নোটিশ পাঠানোর অভিযোগ :

 

আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ ক্রেতা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ফাউন্ডেশন’ একই বছরের ১৪ নভেম্বর আরজেএসসি থেকে নিবন্ধন পায়। সংগঠনটির নিবন্ধন নম্বর এস-৬১০৮ (৩৫২)/০৬। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি ভোক্তাদের অধিকার রক্ষা, প্রতারণা প্রতিরোধ এবং ভোক্তা সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে আসছে।

 

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ১৮ অক্টোবর আরজেএসসি সংগঠনটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। তবে সংগঠনটির প্রকৃত কার্যালয় ‘৭০ জি, সিরাজ ম্যানশন, পুরানা পল্টন’-এ নোটিশটি পাঠানো হয়নি। এর পরিবর্তে ‘৪/৪-বি, সুমন প্লাজা, পুরানা পল্টন’ ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

এ কারণে সংগঠনটির চেয়ারম্যান নোটিশটি পাননি এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হন বলে আইনি নোটিশে দাবি করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালের ১১ ডিসেম্বর সংগঠনটির নিবন্ধন বাতিল করা হয়। ১২ ডিসেম্বর এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করে আরজেএসসি।

 

আইনি নোটিশে নিবন্ধন বাতিলের পুরো প্রক্রিয়াকে প্রাকৃতিক বিচারনীতির পরিপন্থী উল্লেখ করে বলা হয়েছে, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

 

প্রশাসনিক আবেদন করেও মেলেনি প্রতিকার :

 

নিবন্ধন বাতিলের বিষয়টি জানার পর সংগঠনটির পক্ষ থেকে একাধিকবার প্রশাসনিকভাবে প্রতিকার চাওয়া হলেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে আবেদন করা হয়। পরে ২০২৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের মহাপরিচালকের কাছে নিবন্ধন পুনর্বহালের আবেদন জানানো হয়। তবে এসব আবেদনের পরও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার মেলেনি বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।

 

তিন দিনের সময়সীমা, হাইকোর্টে রিটের হুঁশিয়ারি :

 

আইনি নোটিশে নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে ‘বাংলাদেশ ক্রেতা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ফাউন্ডেশন’-এর নিবন্ধন পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

 

সংগঠনটির পক্ষে পাঠানো আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক পর্যায়ে প্রতিকার না পাওয়ায় তারা আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে।

Share This