এসডিজি অর্থায়নে সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

এসডিজি অর্থায়নে সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : July 15, 2026

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে বিদ্যমান বিপুল অর্থায়ন ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও শক্তিশালী সহযোগিতা, অনুদান, সহজ শর্তের ঋণ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এসডিজি অর্জনে প্রয়োজনীয় সংস্কার, বিনিয়োগ ও কার্যকর বাস্তবায়নে সরকারের অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

 

সোমবার (১৪ জুলাই) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত টেকসই উন্নয়নবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ফোরামের (এইচএলপিএফ) সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে দেওয়া  বক্তব্যে এসব কথা তুলে ধরেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

 

বক্তব্যে বলা হয়, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) যৌথ বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছে। ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সমর্থন নিয়ে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় সরকার একটি নাজুক অর্থনীতি এবং দুর্বল হয়ে পড়া প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি শক্তিশালী করতে সরকার ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন’ বা ‘৩আর কৌশল’ গ্রহণ করেছে।

 

বাংলাদেশ জানায়, ২০৩০ সাল পর্যন্ত এসডিজি অর্জনে দেশের প্রতি বছর ১৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থায়নের ঘাটতি রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে। পাশাপাশি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ৩৭ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। বর্তমানে এ খাতে প্রায় ২৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তাৎক্ষণিক অর্থসংকট বিদ্যমান।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, এত বড় আর্থিক চাপের মধ্যেও বাংলাদেশ এসডিজির বিভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চরম দারিদ্র্য হ্রাস, প্রায় সর্বজনীন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিতকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় সহনশীলতা বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন সহযোগিতা কাঠামো এবং এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ একটি রূপান্তরমূলক উন্নয়নযাত্রার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

 

তিনি বলেন, সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ পর্যন্ত বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের মাধ্যমে পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বন্যার ঝুঁকি কমানো এবং পরিবেশগত ভারসাম্য পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব শিল্প ও পরিবহন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং সবুজ বিনিয়োগ ও কার্বন ক্রেডিটের সুযোগ বাড়াতে কার্বন বাজার গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশীয় সম্পদ আহরণ বাড়িয়ে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিস্তার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার উদ্যোগের কথাও জানানো হয়। এ লক্ষ্যে নারীকে কেন্দ্র করে জীবনচক্রভিত্তিক সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষকদের জীবিকা, খাদ্য নিরাপত্তা ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ‘ফার্মার্স কার্ড’ চালু করা হয়েছে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি অনুদান, সহজ শর্তের অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং এসডিজি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়। পাশাপাশি কাউকে পিছিয়ে না রেখে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে।

বাংলাদেশ জানায়, এসডিজির সফল বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সংস্কার, বিনিয়োগ ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে দেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

Share This