সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে কড়া বার্তা প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার

সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে কড়া বার্তা প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক : July 25, 2026

ভবিষ্যতে কোনও সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে সশস্ত্র বাহিনীকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর মহাখালীতে রাওয়া (রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন) ক্লাব মিলনায়তনে চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা। এসময় তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনী কোনও ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দলের নয়। এটি বাংলাদেশের জনগণের আস্থার প্রতীক এবং রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের অন্যতম রক্ষাকবচ। বাহিনীর প্রত্যেক সদস্যের আনুগত্য থাকবে বাংলাদেশ, সংবিধান এবং রাষ্ট্রের জনগণের প্রতি। 

রাওয়ার চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল্লাহ হিল আজমী, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আবু নওরোজ খুরশীদ আলম, জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কামাল আকবর, মেজর (অব.) নিয়াজ আহমেদ, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট (অব.) হারুনুর রশিদ ভূঁইয়া, জুলাই শহিদ আসাদুল্লাহর বাবা মহিউদ্দিন প্রমুখ।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, দেশ যখন কঠিন সময় অতিক্রম করছিল, তখন সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন। রাজপথে রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির মধ্যে আন্দোলনকারীদের ওই ভূমিকা শুধু একটি নিছক রাজনৈতিক আন্দোলনের অংশ ছিল না, বরং সেটি ছিল জাতির ভাগ্য নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতা, পেশাজীবী এবং অবসরপ্রাপ্ত সামরিক সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, জুলাইয়ের চেতনা রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা উচিৎ নয়। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, বিচার এবং জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে সেই চেতনা বাস্তবায়ন করা হবে। বৈষম্য দূরীকরণ, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় ঐক্য ও পুনর্মিলন প্রতিষ্ঠা হবে জুলাইয়ের চেতনার তিনটি মূল ভিত্তি। জুলাই আন্দোলনে আহত যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের চিকিৎসা, পুনর্বাসন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সার্বিক কল্যাণে সরকারের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে অবহেলা বা অস্বীকার করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, সরকারের লক্ষ্য একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, পেশাদার, রাজনীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও জনমুখী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা। এমন একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যাতে বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে কেউ আঙুল তোলার আগে বহুবার ভাবতে বাধ্য হয়। আমরা কোনও আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে মাথা নত করবো না। একটি ঐক্যবদ্ধ, নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক, সমৃদ্ধ এবং আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়াই আমাদের অঙ্গীকার।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, সামরিক বাহিনীতে পদোন্নতি ও দায়িত্ব বণ্টনের একমাত্র মানদণ্ড হতে হবে মেধা, যোগ্যতা, পেশাদারত্ব ও সততা। কোনও ব্যক্তির অতীতের অন্যায় কর্মকাণ্ড কিংবা ক্ষমতাসংশ্লিষ্ট পরিচয়ের কারণে তাকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। গুম, হত্যা বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো অপরাধে জড়িত কেউ বিশেষ সুবিধা পাবেন না। প্রত্যেককে নিজ নিজ কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। এসময় তিনি বলেন, কক্সবাজারে নির্মম হত্যার শিকার অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যার বিচারের রায় দ্রুত কার্যকর করতে এবং পিলখানায় বিডিআরে কর্মরত থাকা সেই সময়ে ৫৭ সেনা কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে রাওয়া চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুল হক বলেন, দেশের ইতিহাস এবং জুলাই অভ্যুত্থানে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান কখনোই ভুলে যাওয়া বা খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। কয়েকজন ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের জন্য পুরো প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা উচিৎ নয়। অনুষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে রাওয়া চেয়ারম্যান বলেন, এটি জুলাইয়ের শহিদ ও তাদের পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আয়োজন, ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির মঞ্চ নয়।

Share This