প্রতি বছরের ন্যায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় আগাম ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। সৌদি আরবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ২০ থেকে ২৫টি গ্রামের মুসল্লিরা পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ৮টায় সদর উপজেলার কুশখালী বাউকোলা এলাকায় অনুষ্ঠিত হয় ঈদের প্রধান জামাত।
কুশখালী বাউকোলা মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত জামাতে ইমামতি করেন মওলানা মহব্বত আলী। ইসলামকাটি, গোয়ালচত্বর, ভোঁদড়া, ঘোনা, ভাড়ুখালী, মিরগিডাঙ্গা ও পাইকগাছা সহ আশপাশের অন্তত ২০টি গ্রামের মুসল্লিরা ঈদুল ফিতরের জামাত নামাজে অংশগ্রহণ করেন।
ঈদের নামাজ আদায় করতে আসা কলারোয়া উপজেলার গোয়ালচত্বর গ্রামের বাসিন্দা আলি হোসেন জানান, সকাল ৭টার দিকে পরিবারসহ বাড়ি থেকে রওনা দেন এবং নির্ধারিত সময় সকাল ৮টায় ঈদের নামাজে অংশ নেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একত্রে নামাজ আদায় করতে পেরে তিনি আনন্দ প্রকাশ করেন।
পাইকগাছা উপজেলা থেকে আগত জিএম হাসান মাহবুব বলেন, তারা আগে থেকেই শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার খবর পেয়েছিলেন। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একই দিনে ঈদ উদযাপন করাকে তারা যৌক্তিক মনে করেন। এ কারণেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসল্লিরা এখানে সমবেত হয়েছেন।
নামাজ শেষে খুতবায় মওলানা মাহবুবুর রহমান বলেন, শাওয়াল মাসের প্রথম দিন উপলক্ষে তারা ঈদের নামাজ আদায় করেছেন এবং একদিন আগে থেকেই রোজা পালন শুরু করেছিলেন। তিনি জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে যেন দেশের সব মুসলমান একসঙ্গে একই দিনে ঈদ উদযাপন করতে পারেন—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন।
মুসল্লিদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত প্রায় এক যুগ ধরে তারা সৌদি আরবের সময় অনুসরণ করে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন করে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এবারও নির্ধারিত সময়ের একদিন আগে ঈদ পালন করা হয়েছে। জামাতে নামাজ আদায় শেষে একে অপরে কোলাকুলি করে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করেন মুসুল্লিরা। এছাড়াও ঐ এলাকায় দূর দুরান্ত থেকে আগাম ঈদের আমেজ দেখতে আসেন অনেকে।