রাজধানীর নয়াপল্টনে মসজিদ রোডে অবস্থিত শারমিন একাডেমি নামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৪ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের একটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। ঘটনার পর স্কুলটিতে তালা ঝুলিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার (২১ জানুয়ারি)। পরদিন বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে শিশুটির মা বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গোলাপি শাড়ি পরা এক নারী শিশুটিকে একটি কক্ষে নিয়ে যান এবং তার গালে চড় মারেন। পরে শিশুটিকে সোফায় বসিয়ে আবারও আঘাত করা হয়। ফুটেজে আরও দেখা যায়, এক পুরুষ শিশুটির মুখের সামনে স্ট্যাপলার দিয়ে ভয় দেখাচ্ছেন এবং একের পর এক ধমক দিচ্ছেন। এক পর্যায়ে শিশুটির গলা চেপে ধরতেও দেখা যায়।
সিসিটিভি ফুটেজটি প্রথম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন আইনজীবী সালেহ উদ্দিন। মুহূর্তেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা দীর্ঘদিন ধরেই ঘটে আসছে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বারবার এমন নিন্দনীয় অপরাধ করছে। আমরা চাই এই শিশুর ওপর নির্যাতনের ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করতে সাহস না পায়।
তিনি আরও বলেন, শিশু আইন যেন সবাই জানে এবং তা কার্যকরভাবে প্রয়োগ হয়—এটাই আমাদের দাবি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভিডিওতে দেখা নারীটি শারমিন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহান এবং পুরুষটি হলেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার।
বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনের শারমিন একাডেমি প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলটি সম্পূর্ণ ফাঁকা। কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন না। প্রতিষ্ঠানের সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এমনকি দায়িত্বশীলদের ব্যবহৃত সব যোগাযোগ নম্বরও বন্ধ পাওয়া গেছে।
এদিকে নির্যাতনের শিকার শিশুটির পরিবার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। শিশুটির মা বলেন, ও এখনো ট্রমায় আছে। শরীরও ভালো নেই। ও এখন আমার মায়ের কাছে রয়েছে।
শিশুটির বাবা জানান, প্রি-প্লে শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই তার সন্তান এমন অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির সাবেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বলেন, শিশুদের শাসনের অধিকার শিক্ষকদের আছে, তবে কোনোভাবেই আঘাত বা নির্যাতন গ্রহণযোগ্য নয়। ভাইরাল ভিডিও দেখে তারাও হতবাক হয়েছেন।
এ বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিও পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে ঘটনাটি নয়াপল্টনের শারমিন একাডেমিতেই ঘটেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে।
ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।