জামায়াতে আমিরের সাম্প্রতিক বক্তব্য দেশের অসংখ্য নারীকে আহত করেছে— বিশেষ করে সেই নারীরা যারা শিক্ষিত, কর্মজীবী এবং পরিবার ও রাষ্ট্রের জন্য অবদান রাখছেন।
“ঘরের বাইরে কাজ করা নারীকে আরেক ধরনের পতিতাবৃত্তি” বলে আখ্যা দেওয়া শুধু আপত্তিকর নয়; এটি বাস্তব বাংলাদেশকে অস্বীকার করা। আজকের বাংলাদেশে নারী ডাক্তার, শিক্ষক, বিচারক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, নার্স, পুলিশ, কৃষক, উদ্যোক্তা ও সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দেশ চালাচ্ছেন। তাদের অবদান ছাড়া দেশ এগোতে পারত না।
আমার বিনীত মতামত হলো:
যদি জামায়াত সত্যিই নারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে চায়, তবে কথার চেয়ে কাজ বড় প্রমাণ দিতে হবে।
এর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে:
দলীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারী নেতৃত্ব অন্তর্ভুক্ত করা
সংরক্ষিত নয়, সরাসরি নির্বাচিত নারীদের মনোনয়ন দেওয়া
সংসদ, মন্ত্রণালয় ও গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে নারীদের স্থান দেওয়া
নারী অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে স্পষ্ট অঙ্গীকার ঘোষণা করা
এটি কোনো “পশ্চিমা” দাবি নয় — এটি ন্যায়, সম্মান ও রাজনৈতিক বাস্তবতা।
নারীরা দেশের অর্ধেক ভোটার। তাদের সম্মান ছাড়া কোনো দলই জাতীয় নেতৃত্ব দাবি করতে পারে না।
ধর্ম মানুষকে মর্যাদা শেখায়, অপমান নয়।
নারীর মর্যাদা রক্ষা মানেই পরিবার ও সমাজকে শক্তিশালী করা।
আমি আশা করি জামায়াত নেতৃত্ব বিষয়টি গভীরভাবে ভেবে দেখবেন এবং ভবিষ্যতে নারীবান্ধব, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির পথে হাঁটবেন।