নারীর আস্থা ফিরবে কীভাবে?

নারীর আস্থা ফিরবে কীভাবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক : February 02, 2026

জামায়াতে আমিরের সাম্প্রতিক বক্তব্য দেশের অসংখ্য নারীকে আহত করেছে— বিশেষ করে সেই নারীরা যারা শিক্ষিত, কর্মজীবী এবং পরিবার ও রাষ্ট্রের জন্য অবদান রাখছেন।

 

“ঘরের বাইরে কাজ করা নারীকে আরেক ধরনের পতিতাবৃত্তি” বলে আখ্যা দেওয়া শুধু আপত্তিকর নয়; এটি বাস্তব বাংলাদেশকে অস্বীকার করা। আজকের বাংলাদেশে নারী ডাক্তার, শিক্ষক, বিচারক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, নার্স, পুলিশ, কৃষক, উদ্যোক্তা ও সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দেশ চালাচ্ছেন। তাদের অবদান ছাড়া দেশ এগোতে পারত না।

 

আমার বিনীত মতামত হলো:

 

যদি জামায়াত সত্যিই নারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে চায়, তবে কথার চেয়ে কাজ বড় প্রমাণ দিতে হবে।

 

এর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে:

দলীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারী নেতৃত্ব অন্তর্ভুক্ত করা

সংরক্ষিত নয়, সরাসরি নির্বাচিত নারীদের মনোনয়ন দেওয়া

সংসদ, মন্ত্রণালয় ও গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে নারীদের স্থান দেওয়া

 

নারী অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে স্পষ্ট অঙ্গীকার ঘোষণা করা

এটি কোনো “পশ্চিমা” দাবি নয় — এটি ন্যায়, সম্মান ও রাজনৈতিক বাস্তবতা।

নারীরা দেশের অর্ধেক ভোটার। তাদের সম্মান ছাড়া কোনো দলই জাতীয় নেতৃত্ব দাবি করতে পারে না।

ধর্ম মানুষকে মর্যাদা শেখায়, অপমান নয়।

 

নারীর মর্যাদা রক্ষা মানেই পরিবার ও সমাজকে শক্তিশালী করা।

আমি আশা করি জামায়াত নেতৃত্ব বিষয়টি গভীরভাবে ভেবে দেখবেন এবং ভবিষ্যতে নারীবান্ধব, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির পথে হাঁটবেন।

Share This