হাসিনাকে ছাড়াই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এগিয়ে যেতে পারে: ফখরুল

হাসিনাকে ছাড়াই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এগিয়ে যেতে পারে: ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক : February 03, 2026

দীর্ঘমেয়াদে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক থাকবেন না জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাকে ছাড়াই ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক এগিয়ে যেতে পারে এবং যাওয়া উচিত।

ভারতের সাপ্তাহিক ইংরেজি ম্যাগাজিন ‘দ্য উইক’কে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা–পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। বিশেষ করে ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী একটি পুরো প্রজন্ম কখনো প্রকৃত অর্থে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। এ কারণে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাঁর মতে, ভোটার উপস্থিতি ভালো হবে এবং নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হবে।

তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছে এবং সরকারও নির্বাচনের ব্যাপারে আন্তরিক। যদিও নির্বাচনী সময়ে কিছু বিচ্ছিন্ন সমস্যা থাকে, তবে সেগুলো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার মতো গুরুতর নয়।

জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গত ১৫ বছরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গে ২০ থেকে ২৪টি রাজনৈতিক দল একসঙ্গে কাজ করেছে। বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচিতে উল্লেখ রয়েছে—সরকার গঠন করতে পারলে ওই আন্দোলনে অংশ নেওয়া দলগুলোকেই নিয়ে একটি ঐকমত্যভিত্তিক সরকার গঠন করা হবে। তবে যারা সেই আন্দোলনের অংশ ছিল না, তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।

ছাত্রদের গঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে জোট না হওয়ার বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আসন বণ্টন নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে সমঝোতা সম্ভব হয়নি। তাঁর ভাষায়, ‘বাংলাদেশের নির্বাচনে প্রতীকের গুরুত্ব অনেক।’

এবারের নির্বাচনকে ভিন্ন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে অংশ না নিলেও দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। তাঁর মতে, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি নির্বাচনকে বড়ভাবে প্রভাবিত করবে না। তিনি আরও বলেন, নতুন নেতৃত্ব ও নতুন ভাবমূর্তি নিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ থাকলেও শেখ হাসিনা বিকল্প নেতৃত্বের সুযোগ দেননি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এতে দলের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে। তারেক রহমান মানব উন্নয়নকেন্দ্রিক রাজনীতির কথা বলেছেন—যেখানে নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষকের ন্যায্য অধিকার ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি ১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি তরুণের কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।

সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের বিষয়ে তিনি জানান, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং প্রধানমন্ত্রীকে সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাব বিএনপির মূল অঙ্গীকারের অংশ। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, পানি বণ্টন, সীমান্তে হত্যা এবং বাণিজ্যিক বৈষম্যের মতো বিষয়গুলোর দ্রুত ও আন্তরিক সমাধান প্রয়োজন। সাম্প্রতিক ক্রিকেট–সংক্রান্ত ঘটনায় উভয় দেশে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এসব ইস্যু সার্বভৌমত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।

পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক বিষয়ে মির্জা ফখরুল পুনর্ব্যক্ত করেন, ১৯৭১ সালের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে প্রতিবেশী দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

Share This