ভারতকে মনে করানোর দরকার ছিল, আমাদেরও মেরুদণ্ড আছে  : আসিফ নজরুল

ভারতকে মনে করানোর দরকার ছিল, আমাদেরও মেরুদণ্ড আছে : আসিফ নজরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক : April 08, 2026

সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত চলতি বছরই, ভারতের মাটিতে। তবে প্রতিবেশী দেশে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের আইসিসির মেগা টুর্নামেন্টে খেলতে যায়নি বাংলাদেশ। মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পরই এমন সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও অন্তবর্তী সরকার। এদিকে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলতে না যাওয়ার কারণ হিসেবে একেক সময় শোনা গেছে একেক রকম কথা। কখনো জানানো হয়েছে, ক্রিকেটাররা এই সিদ্ধান্তের পক্ষেই ছিলেন। পরে যদিও জানা যায় যে, ক্রিকেটাররা এমন সিদ্ধান্তের পক্ষে ছিলেন না। 

এদিকে বাংলাদেশ যখন বিশ্বকাপে না খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তখন অন্তবর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী ছিলেন আসিফ নজরুল। বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ভারতকে বার্তা দিতেই বিশ্বকাপ খেলেনি বাংলাদেশ। 

বিবিসি বাংলাকে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমাদের নিরাপত্তা ইস্যু যখন এত বড় দেশের কাছে এত তুচ্ছ ব্যাপার হয়, আমাদের অপমান করা যখন এত সহজ ব্যাপার হয়—এই অপমান করা, এই তুচ্ছ করা, এই আমাদের স্বার্থহানি করা, আমাদের নিয়ে রসিকতা করা—এটার জবাব যে আমরা দিতে পারি সেটার একটা ভালো উদাহরণ স্থাপন করলাম। তাদের (ভারত) অবশ্যই মনে করিয়ে দেওয়া দরকার ছিল যে আমাদেরও মেরুদণ্ড বলে জিনিস আছে। এটা আপনার কাছে অর্জন না?’ 

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের না খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্তের সূত্রপাত হয় মুস্তাফিজকে কলকাতা নাইট রাইডার্স দল থেকে বাদ দেওয়ায়। তখন এর প্রতিবাদ জানায় বিসিবি। একই সঙ্গে নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপে খেলতে আপত্তি করে। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচের ভেন্যু শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার আবেদনও করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আইসিসি তা করেনি। 

এদিকে বিশ্বকাপ ইস্যুতে গত ২২ জানুয়ারি ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর আসিফ নজরুল জানিয়েছিলেন, সরকারের সিদ্ধান্তে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না বাংলাদেশ। তবে ১০ ফেব্রুয়ারি নিজের শেষ কার্যদিবসে তিনি জানান, ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সাবেক এই ক্রীড়া উপদেষ্টার এমন দ্বিচারিতার সমালোচনা করেছিলেন বাংলাদেশের সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীন।

এ বিষয়ে বিবিসি বাংলাকে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমি আপনাকে বলি। প্রথম কথা হচ্ছে আমি যখন খেলোয়াড়দের সঙ্গে বসেছিলাম, সালাহ উদ্দীন সাহেব সেখানে ছিলেন কি না জানি না। আমি ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে বসেছিলাম, খেলোয়াড়দের সঙ্গে বসেছিলাম। আমি বলেছিলাম, ‘আপনারা মুক্তভাবে আপনাদের মতামত জানান। আমি আপনাদের মতামত শুনতে চাই।’ কেউ জোরালোভাবে বলেননি যে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হচ্ছে না, ক্রিকেটের ক্ষতি হয়ে যাবে। তাঁদের টোন ছিল এরকম, ‘স্যার, আমরা তো খেলোয়াড়েরা তো খেলতে চাইবই। তবে আপনারা যে সিদ্ধান্ত নিবেন, তা মেনে নেব।’’

 

তিনি আরও বলেন, ‘যে কথাগুলো বলা হয়েছিল ক্রিকেট না খেললে বাংলাদেশ অনেক ক্ষতির মুখে পড়বে টড়বে, আমরা তো অ্যাসেস করেছিলাম—কই ক্ষতির মুখে পড়ছে? বাংলাদেশে বিদেশি টিম এসে খেলছে না?’

 

Share This