হামের টিকাদানের টার্গেট ৮১ ভাগ পূরণ হয়েছে: স্বাস্থমন্ত্রী

হামের টিকাদানের টার্গেট ৮১ ভাগ পূরণ হয়েছে: স্বাস্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : May 03, 2026

হামের টিকার যথেষ্ট পরিমাণে মজুত আছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি জানান, টিকাদান কর্মসূচি চলছে এবং এরই মধ্যে শতকরা ৮১ ভাগ টার্গেট পূরণ হয়েছে। দু-চার দিনের মধ্যেই শতভাগ টার্গেট পূরণ হবে।

রবিবার (৩ মে) জেলা প্রশাসক সম্মেলনে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সেশন শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান। ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সেশন অনুষ্ঠিত হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জেলা প্রশাসকরা কিছু বিষয়ের উল্লেখ করেছেন, যেগুলোতে আরও কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য তারা আশা প্রকাশ করেছেন। যেমন- ধরা যাক, অনেক ভবন নির্মাণাধীন। বিগত সরকারের সময়ে অপরিকল্পিতভাবে অনেক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এগুলো অরক্ষিত অবস্থায় আছে, এগুলোকে চালু করার বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করা, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে হাসপাতালগুলোতে অপারেশন রুম, লেবার রুম– এগুলোতে কাজের বিঘ্ন ঘটে। এর একটা বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া। ডেঙ্গু আসছে– নাথিং অ্যাট দ্য ডোর। এই বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এম্বুলেন্স ব্যবহারের ঘাটতি, এম্বুলেন্সের সরবরাহের ব্যবস্থা করা। ভেজাল ওষুধ বিক্রিসহ অনেক বিষয়, যেগুলো অত্যন্ত প্রয়োজন তার উন্নতি করা।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে মানুষের দৌড়গোড়ায় জনস্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে যা যা করা দরকার, সব বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে আলোচনা করা হয়েছে। আমরা শেয়ার করেছি, আবার তারা প্রশ্ন করেছেন কীভাবে করবো। আমরা পরামর্শ দিয়েছি, তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা চেয়েছি। যেমন-ডেঙ্গু  আসছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর জোর দেওয়ার জন্য, কাউন্সিলিং করার জন্য, মায়েরা যাতে শিশুদের যাতে ব্রেস্ট ফিডিং করান, সে বিষয়ে কাউন্সেলিং। এন্টিভেনম যাতে ঘাটতি না হয়, সবসময় স্টকের প্রতি খেয়াল রাখা এবং যা যেভাবে অতীতে করে এসেছে এটাকে আরও সুন্দরভাবে দৃষ্টি রাখা। একটা জলাতঙ্কের রোগী যেন ফেরত না যায়।

হামের অগ্রগতি বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, হামের টিকা ৮১ শতাংশ আমরা কাভার করে নিয়েছি। আমাদের ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রত্যেকটা ক্যাম্পের প্রতি যেন তারা দৃষ্টি রাখেন এ বিষয়ে আমরা সহযোগিতা চেয়েছি। ক্লিনিকগুলো যেগুলো অপরিকল্পিতভাবে হয়েছে যেগুলি অবৈধভাবে চালিত হচ্ছে, ওগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত দিয়ে ভিজিট করা। ডিসপেন্সারিগুলোতে ভেজাল ওষুধ বিক্রি করা হয় কিনা সেগুলো খেয়াল রাখা। সার্বিক দিক থেকে স্বাস্থ্যসেবাকে উন্নত করার লক্ষে প্রধানমন্ত্রীর যে ইচ্ছা আমাদের সরকারের যে প্রতিশ্রুতি, জনগণের দুয়ারের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া– সেই লক্ষ্যে যত রকম কার্যক্রম গ্রহণ করা আমরা জেলা প্রশাসকদের কাছে সেই সহযোগিতা কামনা করেছি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামের টিকা চলছে। এর মধ্যে ৮১ শতাংশ টার্গেট কাভার করেছি এবং কামিং ডাউন। রেট অব প্রোগ্রেশন যেটা ছিল, হাম ও মর্টালিটি রেটও অনেকটা কমে এসেছে। এন্টিবডি তৈরি হতে একটু সময় লাগে। এন্টিবডি সৃষ্টি হচ্ছে, এটা কামডাউন হচ্ছে। আমাদের এখনও চলছে অভিযান। আমরা আর দুই-চার দিনের ভেতরে ১০০ ভাগ টার্গেট কাভার করে ফেলবো। হামের টিকার বিষয়ে আমাদের কোনও স্টক ঘাটতি নেই, কোনও রকম দুর্বলতা নেই।

মন্ত্রী জানান, জেলা প্রশাসকরা আমাদের সহযোগিতা করার জন্য স্বাস্থ্য খাতের সমস্যাগুলিকে রিপিট করেছেন। যেমন-অ্যাম্বুলেন্সের অভাব। রাত-বিরাতে রোগীরা এম্বুলেন্স পায় না। যেমন-ওষুধের ঘাটতি দেখা যায় হসপিটালগুলোতে। এটার সঠিক কোনও হিসাব থাকে না। এটা ডিসপ্লে করার জন্য তারা বলেছেন। ডাক্তার ঠিকমত থাকে না। ডেপুটেশনে ডাক্তার বাইরে অনেক। এটা অনেক ডিসিরা বলেছেন। এগুলি মেজর প্রবলেম। আপনারাও জানেন, আমিও জানি। ডিসি সাহেবও তাই জানেন। এগুলো তুলে ধরেছেন, আমরা সবাই এগুলো প্রতিকার করার জন্য কথা বলেছি, রাস্তা বলেছি।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, তাদের বলছি, ভ্রাম্যমাণ আদালত বাড়াতে। ক্লিনিকগুলোতে ভিজিট করতে, যাতে অপচিকিৎসা না করা হয়। মানুষকে হয়রানি যাতে না করা হয়, এম্বুলেন্সে দালালি না করতে পারে, রোগীকে ফলস রেফারেল যাতে না করতে পারে, ডিসপেনসারিগুলোতে যাতে ভেজাল ওষুধ বিক্রি না করতে পারে, মায়েদের মধ্যে ব্রেস্টফিডিংটা বেশি বেশি করে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে কাউন্সিলিং করার জন্য বলেছি। নেশার হাত থেকে সমাজকে রক্ষার লক্ষ্যে এসপির সঙ্গে বেশি করে বসে কীভাবে মাদকসেবন দমন করা যায়, এটার কথা বলেছি। আরেকটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কথা বলেছি। ডেঙ্গু যাতে আক্রমণ না করতে পারে।

আমরা ইউএইচএফপিওদের সঙ্গে মিটিংয়ে যে ওয়াদা করেছিলাম, তাদের নিরাপত্তা শুধু তাদের না, আমাদের টোটাল মেডিক্যাল কমপ্লেক্স হেলথ হাবের। নিরাপত্তার স্বার্থে ওখানে আমরা একজন প্লাটুন কমান্ডারসহ ১০ জন করে আনসার দিচ্ছি। এটার কার্যক্রম চলছে।

Share This