অনলাইন জুয়ার টাকা ‘সহজেই বিদেশে পাচার’, চীনা চক্রের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার

অনলাইন জুয়ার টাকা ‘সহজেই বিদেশে পাচার’, চীনা চক্রের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক : May 14, 2026

বিদেশে অর্থ পাচার রোধে সরকারের নানা উদ্যোগের মধ্যেও অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা ও অবৈধ ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি চক্র সহজেই অর্থ পাচার করছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, বাংলাদেশিদের সহজে প্রলুব্ধ করা যায় বলেই বিদেশি চক্রগুলো এখানে সক্রিয় হচ্ছে। বিকাশ, নগদসহ মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে বিদেশে পাচার করা হচ্ছে।

ডিবি জানায়, বুধবার রাজধানীর উত্তরা ও তুরাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয় চীনা নাগরিকসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন— এমএ জি, ঝাং জিয়াহাও, লিউ জিঞ্জি, ওয়াং শিবো, চাং তিয়ানতিয়ান, জেমস ঝু, কাউসার হোসেন (২৪), আব্দুল কারিম (২৮) ও রোকন উদ্দিন (৪০)।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের সময় ফেসবুক, ইউটিউব, টেলিগ্রাম গ্রুপ ও বিভিন্ন ভুয়া ওয়েবসাইটে অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন, ডিপোজিট বোনাসের প্রলোভন এবং বিকাশ-নগদ ব্যবহার করে অবৈধ লেনদেনের তথ্য শনাক্ত করা হয়। এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হচ্ছিল।

অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে তিনটি ৬৪-পোর্টবিশিষ্ট, একটি ২৫৬-পোর্টবিশিষ্ট এবং একটি ৮-পোর্টবিশিষ্ট জিএসএম সিম মডিউল বা ভিওআইপি গেটওয়ে, বিভিন্ন অপারেটরের প্রায় ২৮০টি সিমকার্ড, একাধিক ল্যাপটপ ও স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে।

ডিবির ভাষ্য, গ্রেপ্তাররা সংঘবদ্ধভাবে অনলাইন জুয়া, প্রতারণা, অবৈধ ই-ট্রানজেকশন ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত। তারা অন্যের নামে নিবন্ধিত এমএফএস এজেন্ট সিম সংগ্রহ করে জিএসএম গেটওয়ের মাধ্যমে শতাধিক সিম একসঙ্গে সক্রিয় রাখত। এসব সিম ব্যবহার করে অনলাইন জুয়ার অর্থ লেনদেন, প্রতারণা এবং অবৈধ আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো।

ডিবি কর্মকর্তারা জানান, চক্রটি নিজস্ব জুয়ার পোর্টাল পরিচালনার পাশাপাশি কোটি কোটি টাকা বিদেশে, বিশেষ করে চীনে পাচার করছিল।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, “বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে টাকাটা তাদের কাছে আসছে এবং তাৎক্ষণিকভাবেই সেটা তারা বিদেশে পাচার করে দিচ্ছে। এটা আমাদের জন্য খুবই ক্ষতিকর।”

তিনি আরও বলেন, “ডিজিটাল বিভিন্ন মাধ্যমে টাকা ট্রান্সফার করা এখন অনেক সহজ হয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে কথা বলব।”

প্রযুক্তিগত দক্ষতার কারণে চীনা নাগরিকরা সহজেই বাংলাদেশিদের টার্গেট করতে পারছে বলেও মন্তব্য করেন ডিবিপ্রধান। তিনি বলেন, “প্রযুক্তির দিক দিয়ে চীনারা অনেক এগিয়ে। বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশিদের প্রলুব্ধ করছে।”

Share This