বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ফেনী সেন্ট্রাল লিও ক্লাবের ব্যতিক্রমী ফল উৎসব

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ফেনী সেন্ট্রাল লিও ক্লাবের ব্যতিক্রমী ফল উৎসব

ফেনী প্রতিনিধি : June 07, 2026

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বিলুপ্তপ্রায় ও দেশীয় ফলের পরিচিতি তুলে ধরে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বার্তা ছড়িয়ে দিতে ব্যতিক্রমী “ফল উৎসব” আয়োজন করেছে ফেনী সেন্ট্রাল লিও ক্লাব।

শনিবার (৬ জুন) ফেনী লায়ন্স ফ্যামেলির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ উৎসবে দেশীয় ও বিলুপ্তপ্রায় প্রায় ৩১ প্রকার ফল প্রদর্শন ও পরিবেশন করা হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে দেশীয় ফলের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফেনী সেন্ট্রাল লিও ক্লাবের প্রেসিডেন্ট লিও এস জেড অপু। তিনি বলেন, বিশ্ব পরিবেশ দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষা শুধু দায়িত্ব নয়, বরং অস্তিত্ব রক্ষার পূর্বশর্ত। দেশীয় ফল, গাছপালা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তরুণদের দেশীয় ফলের প্রতি আগ্রহী করা এবং এর পুষ্টিগুণ ও পরিবেশগত গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেই এ আয়োজন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফেনী সেন্ট্রাল লায়ন্স ক্লাবের চার্টার্ড প্রেসিডেন্ট ও ফেনী সেন্ট্রাল লিও ক্লাবের কো-অ্যাডভাইজর লায়ন পলাশ চন্দ্র সূত্রধর বলেন, দেশীয় ফল আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিলুপ্তপ্রায় ফল ও স্থানীয় প্রজাতিগুলো সংরক্ষণ করতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য থেকে বঞ্চিত হবে। এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লায়ন দীন মোহাম্মদ দীনু, লায়ন রইসুল ইসলাম রিমন, লায়ন এস এম সাহেদুল আলম রনি এবং ফেনী সেন্ট্রাল লিও ক্লাবের চার্টার্ড প্রেসিডেন্ট লিও রাহাত আহমেদ। অনুষ্ঠানের প্রোগ্রাম চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন লিও রহমতুল্লাহ রাকিব।

ফল উৎসবে লটকন, বেতফল, কাউ, করমচা, জামরুল, বাতাবিলেবুসহ দেশীয় আম, জাম, কাঁঠাল, পেয়ারা, লিচু ও আনারসসহ প্রায় ৩১ প্রকার দেশীয় ও বিলুপ্তপ্রায় ফল প্রদর্শন করা হয়। 

বক্তারা বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। দেশীয় ফল ও উদ্ভিদ প্রজাতি সংরক্ষণের মাধ্যমে একটি সবুজ, টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

অনুষ্ঠান শেষে সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে উৎসবে অবশিষ্ট ফল ফেনী শহরের কুমিল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শ্রমজীবী মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি সম্পদের অপচয় রোধ এবং মানবিক মূল্যবোধ চর্চার বার্তা ছড়িয়ে দিতেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

Share This