প্রক্সি পরীক্ষার জালিয়াতি: বিসিএস সুপারিশপ্রাপ্তসহ আটক ৩

প্রক্সি পরীক্ষার জালিয়াতি: বিসিএস সুপারিশপ্রাপ্তসহ আটক ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : July 31, 2026

সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থী দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ানো এবং প্রতারণার মাধ্যমে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় ৪৫তম বিসিএসে সমবায় ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তাসহ তিন সরকারি চাকরিজীবীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) সিআইডি জানায়, গ্রেফতাররা হলেন— নুরন্নবী (৫৫), মো. সোহেল (৪০) এবং জুলফিকার আলী ওরফে রায়হান (২৯)। নুরন্নবী ও মো. সোহেল চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে কর অঞ্চল-২-এর বিভাগীয় কর কমিশনারের কার্যালয়ে অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত। অন্যদিকে জুলফিকার আলী বর্তমানে মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে জুনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত এবং সম্প্রতি ৪৫তম বিসিএসে সমবায় ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।

সিআইডি জানায়, কর অঞ্চল-নোয়াখালীতে গ্রেড-১৩ থেকে গ্রেড-২০ পর্যন্ত বিভিন্ন পদে নিয়োগের লক্ষ্যে গত ৫ জুন লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে ১১২ জনকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়। পরে যোগদানের সময় আবেদনপত্র, শিক্ষাগত সনদ ও অন্যান্য কাগজপত্র যাচাইয়ের একপর্যায়ে কয়েকজন প্রার্থীর হাতের লেখায় অসঙ্গতি ধরা পড়ে।

জিজ্ঞাসাবাদে মো. কামাল উদ্দিন, মো. নাসফুরুল্লাহ এবং মো. সুজন নামে তিন প্রার্থী স্বীকার করেন, তারা নিজেরা পরীক্ষায় অংশ নেননি; তাদের পরিবর্তে প্রক্সি পরীক্ষার্থী লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এ ঘটনায় ২২ জুন সুধারাম মডেল থানায় প্রতারণা, জালিয়াতি ও সহায়তার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় শুরু থেকেই সিআইডির নোয়াখালী জেলা ইউনিট ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে মামলাটি সিআইডির তফসিলভুক্ত হলে তদন্তভার গ্রহণ করে সংস্থাটি।

তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র অর্থের বিনিময়ে প্রক্সি পরীক্ষার্থী সরবরাহ করে বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষায় প্রকৃত প্রার্থীদের বদলে অংশগ্রহণ করাত। দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩০ জুলাই পৃথক অভিযানে নুরন্নবী ও মো. সোহেলকে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে কর অঞ্চল-২ কার্যালয় থেকে এবং জুলফিকার আলী ওরফে রায়হানকে কক্সবাজারের মাতারবাড়ি এলাকা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে পালিয়ে যাওয়ার সময় গ্রেফতার করা হয়।

সিআইডি জানায়, এ মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ছয়জন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) গ্রেফতার তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং এই সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

Share This