বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে করা মামলায় মূল তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) মো. আলমগীরের দ্বিতীয় দিনের জবানবন্দি পেশ আজ।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেলে এ জবানবন্দি পেশ করবেন তিনি। ট্রাইব্যুনালে অন্য সদস্যরা হলেন, বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এর আগে রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) তার প্রথম দিনের জবানবন্দি দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। প্রথম দিন জবানবন্দিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্মান্তিক ১৭টি ভিডিও ফুটেজ প্রদর্শনী করা হয়। তিনি জবানবন্দিতে বলেছেন, তার নেতৃত্বে সর্বমোট ৮৪টি গুলির তথ্য জব্দ করা হয়। এদিন দুপুর সোয়া ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জবানবন্দি গ্রহণ করে আজকের জন্য মুলতবি করা হয়।
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের ৫৪তম সাক্ষী ও তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর বিপিএম এ মামলার সর্বশেষ সাক্ষী।
বিজ্ঞাপন
তদন্তকালে শেখ হাসিনার ৬৯টি অডিও ক্লিপ ও তিনটি মোবাইল নম্বরের সিডিআর বা কল ডিটেইল রেকর্ড জব্দ করেন তানভীর জোহা। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তিনি পাঁচটি অডিও কথোপকথন সম্বলিত তিনটি সিডি ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেন। পরে সেসব ফোনালাপ শোনানো হয়।
মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়া অপর দুই আসামিরা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। এরমধ্যে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন আসামি থেকে রাজসাক্ষী হওয়ার পর জবানবন্দি পেশ করেছেন ।
এ মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন তদন্ত সংস্থার উপপরিচালক মো. জানে আলম খান। পরে তদন্ত করেন উপ-পরিচালক মো. আলমগীর (বিপিএম)। সার্বিক সহযোগিতা করেছিলেন বিশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা।
এ ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর চলতি বছরের ১২ মে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরবর্তী সময় ৩১ মে সম্পূরক অভিযোগ দেওয়া হয়। গত ১ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়।