ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনার মধ্যে জার্মানিতে গোপন বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও সাত আরব দেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা, ইরানের হামলা, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল এবং হুতি ইস্যুতে সম্ভাব্য সামরিক সহযোগিতা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
অ্যাক্সিওসে দুই ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে জার্মানিতে ওই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটির আয়োজন করেন অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার।
বৈঠকের বিষয়ে অংশগ্রহণকারী কোনো সরকারই প্রকাশ্যে ঘোষণা দেয়নি। ছয় মাসেরও বেশি সময় আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর পর এ ধরনের এটিই প্রথম শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক বলে জানা গেছে।
বৈঠকে ইসরায়েলের পাশাপাশি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, জর্ডান ও মিসরের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা অংশ নেন।
অংশগ্রহণকারী কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় বৈঠকটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
পরে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত একটি নির্ধারিত সম্মেলনে আট দেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।
অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, ইরানের ধারাবাহিক হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু হলেও অঞ্চলটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেই।
এ ছাড়া হরমুজ প্রণালী দিয়ে সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল বাড়াতে ওয়াশিংটনের পরিকল্পনা সম্পর্কেও তিনি অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের অবহিত করেন।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) চিফ অব স্টাফ জেনারেল আইয়াল জামির একাধিক ফ্রন্টে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দেন।
২০২০ সালে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস স্বাক্ষরের পর ইসরায়েল ও বিভিন্ন আরব দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়েছে। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এই সহযোগিতা বেড়েছে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলমান যুদ্ধের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক-দুই ধরনের সামরিক কার্যক্রমেই ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা রয়েছে।
তাদের দাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইসরায়েলের আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য, নজরদারি ও অনুসন্ধান-সংক্রান্ত সহায়তাও দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের হামলা জোরদার এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালীর আশপাশে তাদের নিয়ন্ত্রণ বিস্তারের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
অ্যাক্সিওসের উদ্ধৃত একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সক্রিয় সম্পৃক্ততায় ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যেও হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি সামরিক অভিযানে ইসরায়েলের সম্ভাব্য সহায়তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
সম্ভাব্য এই সহায়তার মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য ও নজরদারি সহায়তাও থাকতে পারে।