যথেষ্ট হয়েছে। হুমায়ুন কবীরের মতো লোকজনকে ‘শিক্ষা’ দেওয়ার সময় এসেছে। সোমবার (২৯ জুন) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এভাবেই নওদার বিধায়ককে হুঁশিয়ারি দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।
রেজিনগর এবং শক্তিপুরের কর্মসূচিতে যে ভাষণ দিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হুমায়ুন কবীর, তার পরিপ্রেক্ষিতে কোন কোন ধারায় এফআইআর রুজুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা-ও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তার মতে, নিজের ছেড়ে আসা রেজিনগর আসনে পুত্রকে উপনির্বাচনে প্রার্থী করে জিতিয়ে আনতে চান বলেই এ সব বলছেন হুমায়ুন।
তবে এ ধরনের কথাবার্তা আর বলা যাবে না। হুমায়ুনকে ‘সংযত’ হতেও বলেন শুভেন্দু। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেইউপি) বিধায়ক হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, তিনি শুভেন্দুকে কিছু বলেননি। তাকে গ্রেফতার করতে হলে করবে।
সোমবার বিধানসভায় প্রথমে দু’টি কর্মসূচিতে হুমায়ুন যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তা পড়ে শোনান মুখ্যমন্ত্রী। তার পরেই বলেন, দু’টি ঘটনার পরে মনে হয়েছে, এনাফ ইজ এনাফ (যথেষ্ট হয়েছে)। সময় এসেছে এই ধরনের লোককে সবক শেখানোর।
সুর চড়িয়ে শুভেন্দু আরও বলেন, আপনাকে পরিষ্কার বলছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নন। আপনি দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে যা খুশি করেছেন।
তার পরেই শুভেন্দু স্পষ্ট করে দেন, তার সরকার কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তার কথায়, আমি আপনাকে বলে গেলাম, দু’টি এফআইআর স্টার্ট করেছি।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২৬ জুনের ঘটনায় রেজিনগর থানায় কেস ২১৯, ২২৬ রুজু হয়েছে। ভারতীয় সংহিতার ১৫২, ৯১২, ১৯৬, ১৯৭, ২২৪, ২৯৯, ৩৫১ (২) ৩৫২, ৩৫৩ ধারার অধীনে।
দ্বিতীয় ঘটনায় শক্তিপুর থানায় ১৭৬/২২৬ এ আরেকটি মামলা রুজু করা হয়েছে। ভারতীয় সংহিতার ধারা আরোপ করা হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, হুমায়ুন যে ভাষায় বক্তৃতা করেছেন, তা করার ক্ষমতা তাকে কেউ দেয়নি। তার কথায়, আপনাদের নিশ্চিত করছি, এত বড় ক্ষমতা তাকে কেউ দেয়নি।
কেন নওদার বিধায়ক এ সব বলছেন, তার কারণ ব্যাখ্যাও করেন শুভেন্দু। তার কথায়, কেন করছেন জানি, রাজনৈতিক কারণ জানি, দু’টি এজেন্ডা ছিল।
এর পরেই আরও বিশদে শুভেন্দু জানান, হুমায়ুনের প্রথম উদ্দেশ্য ছিল- ভরতপুর, রেজিনগর, নওদায় সব নির্বাচিত পঞ্চায়েত, তা সে যে দলেরই হোক, নিজের দলে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু তিনি তা করতে পারছেন না।
হুমায়ুনের দ্বিতীয় উদ্দেশ্য নিয়ে শুভেন্দু বলেন, বিধানসভা ভোটে দু’টি আসনে জিতেছেন। নিয়ম মেনে রেজিনগর আসন ছেড়ে দিয়েছেন। আগামী ২-৩ মাসে সেখানে ভোট হবে। ওই আসনে আপনি আপনার ছেলেকে জেতাতে চাইছেন।
শুভেন্দুর কথায়, ওই আসনে ৭২ শতাংশ মুসলিম রয়েছেন। মুসলিম ভোট কনসোলিডেট (ঐক্যবদ্ধ) করার জন্য আপনি এই খেলা খেলছেন।
মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কান খুলে শুনে রাখুন, আপনাকে এভাবে হুমকি, বেপরোয়া, লাগামছাড়া কথা বলতে দেব না, দেব না, দেব না।