সাত ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে ইসি যে সময়সূচি ঘোষণা করেছে তা সরকার জানে না বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সাথে আগে আলোচনা না করেই নির্বাচন কমিশন (ইসি) সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করেছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসির পরিকল্পনার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় তিনি এমনটা জানান।
ইসির ইউপি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, ‘আপনাদের মতো আমরাও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে পত্রিকায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং টেলিভিশনগুলোতে দেখেছি যে, নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কয়েক ধাপে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। আমি আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে শুধু এইটুকুই জানাতে চাই, এ ব্যাপারে সরকার কিছু জানে না এবং সরকারের সঙ্গে কোনো পত্র যোগাযোগ বা অন্য কোনোভাবে আলোচনা হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন স্বাধীন।
তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতা আছে নির্বাচন করার। কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর প্রস্তুতি সভা বা আইনশৃঙ্খলা কমিটি, এ ধরনের সভা করার পরেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে। বাজেটসহ বিভিন্ন বিষয় থাকে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আবারও রিপিট করছি, নির্বাচন কমিশন যে তারিখগুলো ঘোষণা করেছে, এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।সরকার এ ব্যাপারে কিছু জানে না।’
এর আগে গতকাল বিকেলে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট আগামী ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ৭ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপে ৮০ উপজেলার ইউপি ভোট ১২ নভেম্বর। তবে প্রাথমিক এই সিদ্ধান্ত আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর আন্ত বিভাগীয় বৈঠকের পর চূড়ান্ত হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, প্রথম ধাপে দেশের ৬৩ জেলার ৮০টি উপজেলার সব ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে উপনির্বাচনের জন্য প্রথম ধাপে ঠাকুরগাঁওয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না, এই জেলা থাকবে দ্বিতীয় ধাপে।
তিনি আরো বলেন, দ্বিতীয় ধাপে আগামী ১৩ ডিসেম্বর এবং তৃতীয় ধাপে আগামী ৩০ ডিসেম্বর ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ২০২৭ সালের ১৭ জানুয়ারি চতুর্থ ধাপে, ৪ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম, ২২ এপ্রিল ষষ্ঠ এবং ২৭ মে সপ্তম ধাপে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, বিভিন্ন পরীক্ষা, দুর্গাপূজা, রমজান ও ঈদের সময় বিবেচনায় নিয়ে ৭ ধাপে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে প্রাথমিক এই সিদ্ধান্ত আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর আন্ত বিভাগীয় বৈঠকের পর চূড়ান্ত হবে।
এ সময় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে দেশের ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ২৭২টির নির্বাচন আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার সময়সীমা তৈরি হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।