জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশের নারীরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশের নারীরাই সবচেয়ে বেশি বিপন্ন হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হওয়া একাধিক নারী উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াতকে উদ্দেশ করে রিজভী বলেন, আপনারা নারীদের পরিপূর্ণ বিকাশ চাননি। নারীরা একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দিক—তা আপনারা চান না। তারা একটি রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দিক—সেটিও চান না। অথচ ভোটের সময় নারীদের দিয়েই ভোট চাওয়ানো হচ্ছে এবং তাদের কাছ থেকেই ভোট চাইছেন। এখানেই আপনাদের গলদ রয়েছে। আপনারা যদি ক্ষমতায় আসেন, তাহলে এ দেশে সবচেয়ে বেশি বিপন্ন হবে নারীরা।
তিনি আরও বলেন, সারা দেশে বিরোধী মতের নারীদের টার্গেট করে সাইবার বুলিং চালানো হচ্ছে। ধর্মের নাম ভাঙিয়ে রাজনীতি করতে গিয়ে নারীদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হচ্ছে। বট বাহিনী ও মব বাহিনী মিলে সমাজকে এক ভয়ঙ্কর অধঃপতনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ভোট পাওয়ার জন্য জামায়াত নানা ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং একেকজনের মুখ থেকে একেক ধরনের বক্তব্য আসছে। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে গিয়ে সর্বোচ্চ বাজে ও ইতর শ্রেণির শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী জানান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাহরিন ইসলামের বাসায় হুমকি দিয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার কাছে মনে হয়েছে পাহাড়ের গুহা থেকে সাধারণত দস্যু কিংবা জঙ্গিরা যেভাবে চিঠি পাঠায়, ঠিক সেভাবেই এই চিঠি পাঠানো হয়েছে।
হুমকি দিয়ে পাঠানো চিঠির বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে জানিয়ে অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম বলেন, কয়েকজন ব্যক্তি এসে তার বাসার দারোয়ানের হাতে চিঠিটি দিয়ে গেছে। তিনি বলেন, তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, তবে বিশ্বাস করেন চিঠি পাঠিয়ে বা হুমকি দিয়ে তার মতো নারীদের থামিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তার আশপাশে থাকা নারী কিংবা গার্মেন্টসে কাজ করা নারীদেরও এভাবে দমিয়ে রাখা যাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
নাহরিন ইসলাম বলেন, তারা যে নারী-বিরোধী, তা তিনি সরাসরি বলবেন না। তারা আসলে সেই নারীদের বিরোধী, যারা একটি ন্যারেটিভ তৈরি করতে পারে। নারীদের ব্যবহার করা হয় ভোট চাওয়ার জন্য এবং জান্নাতের টিকিট বিক্রির জন্য।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সময় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তিনি ১৫ মাস কারাবন্দী ছিলেন। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর তিনি আরেকটি রাজনৈতিক দলের শত্রুতে পরিণত হয়েছেন। জামায়াতের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের কাছে একমাত্র তাদের দলের নারীরাই সেরা, পর্দাশীল, যোগ্য ও চরিত্রসম্পন্ন। ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের নারীরা তাদের কাছে চরিত্রহীন, অযোগ্য এবং ইসলামবিদ্বেষী হিসেবে চিহ্নিত।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতের একটি বিশেষ বট বাহিনী রয়েছে, যারা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে। তাদের প্রধান লক্ষ্য বিরোধী দলের সেই সব নারীরা, যারা নারীর অধিকার নিয়ে কথা বলেন। প্রকাশ্যে ও ইনবক্সে হুমকি দেওয়া হয়, অনলাইনে সাইবার বুলিং করা হয় এবং চরিত্রহীন ও ইসলামবিরোধী ট্যাগ দিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার চেষ্টা করা হয়, যাতে নারীরা ভয় পেয়ে ঘরে বসে পড়ে।
খাদিজাতুল কুবরা বলেন, তাদের কাছে একমাত্র জামায়াতের ছাত্রী সংস্থার নারীরাই নিরাপদ ও পর্দাশীল হিসেবে বিবেচিত, অন্য দলের নারীরা কোনোভাবেই নিরাপদ নন। তিনি বলেন, যখন কথা বলতে পারেননি, তখন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বলে ১৫ মাস জেল খেটেছেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে কারাবরণ করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত আইন বাতিলেও ভূমিকা রেখেছেন। অথচ এখন সেই আন্দোলনের ফল হিসেবে তাকে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।