কানাডার জাল ভিসায় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ১

কানাডার জাল ভিসায় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ১

নিজস্ব প্রতিবেদক : October 15, 2026

কানাডায় ভালো চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে জাল ভিসার মাধ্যমে ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে হাসান মুরাদ (৩৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গত ১৪ অক্টোবর রাজধানীর রূপনগর আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হাসান মুরাদের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী পেশায় একজন গাড়িচালক। বিদেশে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় তিনি প্রতারণা চক্রের সদস্য দিদার শেখের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দিদার তাকে কানাডায় পাঠানো এবং সেখানে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ জন্য ভিসা ও আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ ১৮ লাখ টাকা দাবি করা হয়। কানাডায় যাওয়ার আশায় ভুক্তভোগী বিভিন্ন সময়ে দিদার শেখকে ওই টাকা দেন।

পরবর্তী সময়ে চক্রের সদস্যরা ভুক্তভোগীকে কানাডার স্টিকার ভিসা সংযুক্ত একটি পাসপোর্ট ও ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের বিমানের টিকিট দেন। ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর রাত আনুমানিক ২টার দিকে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন ইমিগ্রেশন কাউন্টারে গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পাসপোর্টে থাকা কানাডার ভিসাটি পরীক্ষা করে জাল বলে শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বিমানবন্দর থানায় প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করেন। ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর দায়ের করা মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৪৬৭ ও ৪৬৮ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

সিআইডি জানায়, মামলার তদন্তে ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর অভিযুক্ত দিদার শেখকে এবং পরবর্তী সময়ে তার দেওয়া তথ্য ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের ২৩ জানুয়ারি চক্রের আরেক সদস্য সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দুজনই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয়, অবস্থান ও সম্ভাব্য ভূমিকা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে সিআইডি। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর রূপনগর আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাসান মুরাদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাসান মুরাদ প্রতারণার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তবে কথিত জাল ভিসা সংগ্রহ ও সরবরাহ, অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং অর্থ লেনদেনে তার ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

মামলাটির তদন্তে চক্রের অন্য সদস্য, পলাতক অভিযুক্ত এবং দেশি-বিদেশি সহযোগীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত থাকলে তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

বিদেশে কর্মসংস্থান, অভিবাসন কিংবা ভ্রমণের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে অর্থ বা পাসপোর্ট না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। পাশাপাশি সরকার অনুমোদিত বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশে যাওয়া এবং ভিসা প্রদানকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ভিসার নামে অস্বাভাবিক অঙ্কের অর্থ দাবি, পাসপোর্ট আটকে রাখা, ভিসা জালিয়াতি কিংবা মানবপাচারের সন্দেহজনক ঘটনা সম্পর্কে নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা সিআইডিকে অবহিত করারও অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

Share This