জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর তিন থানার পৃথক ৩ মামলায় মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমসহ ৪ জনকে গ্রেফতার দেখিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৩০ জুন) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ ভদ্রের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এদিন আসামিদের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। পরে আদালত সেটি মঞ্জুর করেন।
অন্য আসামিরা হলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য শাহে আলম মুরাদ ও নোয়াখালী কমানডেন্টের সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান।
মামলাগুলোর মধ্যে ধানমন্ডি থানার কিশোর শামীম হত্যায় জাহাঙ্গীর আলম ও শাহে আলম মুরাদ, কোতয়ালী থানার শাওন মুফতি হত্যা মামলায় মমতাজ বেগম এবং যাত্রাবাড়ী থানাধীন মঈনুল ইসলাম ওরফে মাইনুদ্দিন হত্যা মামলায় আসাদুজ্জামানকে গ্রেফতার দেখিয়েছেন আদালত।
মমতাজের মামলার সূত্রে জানা গেছে, জুলাই আন্দোলন চলাকালে গত ৫ আগস্ট রাজধানীর তাঁতীবাজার মোড়ে আন্দোলনে অংশ নেন শাওন মুফতি (২৩)। এদিন রাত সাড়ে ১১টায় আসামিদের ছোড়া গুলিতে আহত হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে রাত দেড়টার দিকে চিকিৎসা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের মা মাকসুদা বেগম ২৮ মে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫৭ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। এ মামলায় মমতাজ ১৪ নাম্বার এজাহারনামীয় আসামি।
শাওন হত্যা মামলার সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের হোটেল চিলিসের সামনে আন্দোলনে অংশ নেয় মো. শামীম (১৩)। এদিন বিকেলে আসামিরা গুলিবর্ষণ ও অগ্নিসংযোগ করলে শামীম আগুনে দগ্ধ হয়। পরে ৬ আগস্ট সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় ৩ অক্টোবর ভিকটিমের মা জাহানারা বেগম সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১২৮ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করে ধানমন্ডি থানায় মামলা দায়ের করেন।