সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়নের লক্ষ্মীদাড়ি গ্রামে তাসলিমা খাতুন (২৫) নামে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী সাদ্দাম হোসেন পলাতক রয়েছেন।
শনিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাদ্দাম হোসেন রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন এবং পরিবার নিয়ে ওই এলাকায় তার নানার বাড়িতে বসবাস করতেন। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। সম্প্রতি পরিবারে আর্থিক সংকট দেখা দেয়। এর মধ্যে তাসলিমা খাতুন বাবার বাড়ি থেকে একটি ছাগল নিয়ে আসেন। পরে স্বামীকে না জানিয়ে সেই ছাগল বিক্রি করে দেন সাদ্দাম হোসেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহ ও পারিবারিক বিরোধের জেরে শনিবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে তাদের দুই সন্তানকে পাশের ঘরে আটকে রেখে স্বামী-স্ত্রী মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে পরিবারের লোকজন ঘরের মেঝেতে তাসলিমা খাতুনের গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সাদ্দাম হোসেন স্ত্রীর প্রতি সন্দেহপ্রবণ ছিলেন। তিনি ঘরের ভেতরে সিসি ক্যামেরাও স্থাপন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর তদন্তের স্বার্থে সিসি ক্যামেরার ডিভাইস জব্দ করেছে পুলিশ।
সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদুর রহমান জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।