রাজধানীর উত্তরার তুরাগে বাউনিয়া মেট্রোরেল এলাকার দক্ষিণ স্টেশনের পশ্চিম পাশে জমি দখল, স্থাপনা ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আহসান উল্লাহ, তাঁর ছেলে সানীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিজেদের জমি ও জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী চৌধুরী গোলাম মর্তুজা ও তাঁর পরিবার।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাউনিয়া মেট্রোরেল এলাকার দক্ষিণ স্টেশনের পশ্চিম পাশে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন চৌধুরী গোলাম মর্তুজা। এ সময় তিনি জমির মালিকানা ও দখল রক্ষা এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
৩২ শতাংশ জমি কেনার দাবি :
সংবাদ সম্মেলনে চৌধুরী গোলাম মর্তুজা জানান, তিনি ও তাঁর স্ত্রী মারিয়া চৌধুরী দুটি সাফকবলা দলিলের মাধ্যমে বাউনিয়া মৌজায় সিটি জরিপের ১৬০০৯ ও ১৬০২৩ নম্বর দাগে মোট ৩২ শতাংশ জমি কেনেন। পরে জমিটি নিজেদের নামে নামজারি করেন এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে ভোগদখলে ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
মর্তুজার অভিযোগ, ২০২৪ সালে আহসান উল্লাহর দায়ের করা একটি মামলায় তাঁকে কারাগারে যেতে হয়। এ সুযোগে আহসান উল্লাহ, হুমায়ুন কবির, আহসান উল্লাহর ছেলে সানীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁর জমি জবরদখল করেন। পরে ওই জমি লেক ভিউ ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী মারিয়া চৌধুরী তুরাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানান মর্তুজা।
ভাঙচুর ও হুমকির অভিযোগ :
মর্তুজা আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে তাঁর দখলে থাকা জমির অংশটুকুও দখলে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ জন্য তাঁকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন করে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে জমি দখল করা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে দাবি করে মর্তুজা বলেন, এসব ঘটনায় তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জমির মালিকানা ও দখল সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা চান। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আহসান উল্লাহ, তাঁর ছেলে সানী ও অন্য অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।