চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ, আহত ১৩

চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ, আহত ১৩

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : January 26, 2026

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের আলমডাঙ্গা উপজেলার যুগিরহুদা গ্রামে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন।

জামায়াতের অভিযোগ, রোববার দুপুরে তাদের কয়েকজন নারী কর্মী ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইছিলেন। এসময় বিএনপির সমর্থকরা বাধা দিলে একপর্যায়ে নারীদের ওপর হামলা চালানো হয়।

অন্যদিকে বিএনপির দাবি, জামায়াতের নারী কর্মীরা ভোটারদের বাড়ি গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করছিলেন। এ ছাড়া কুরআন শরীফ ছুঁইয়ে শপথ করানো হচ্ছিল- এমন অভিযোগও করা হয়। বিষয়টি জানতে চাইলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে জামায়াতের পুরুষ কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে দফায় দফায় হামলা চালায় বলে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

আহত বিএনপি কর্মী আরাফাত আলী বলেন, বাইরের জেলা থেকে আসা কয়েকজন নারী কুরআন শরীফ হাতে নিয়ে ভোট চাইছিলেন এবং অর্থ দেওয়ার কথাও বলা হচ্ছিল। এতে আপত্তি জানালে জামায়াতের কর্মীরা লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তিনি এ ঘটনার জন্য জামায়াতের নেতা মাসুদ পারভেজ রাসেলকে দায়ী করেন।

আরেক আহত বিএনপি কর্মী মানিক মিয়া বলেন, তার রাইস মিলের সামনে মোটরসাইকেল রাখাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে রড ও দা দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার হাত ভেঙে যায় এবং মাথায় জখম হয়।

আহত ছাত্রদল কর্মী ফয়সাল বিন রাব্বী বলেন, কয়েকশ নারী ভোট চাইতে এসে কুরআন শরীফ ছুঁইয়ে শপথ করাচ্ছিলেন। এ বিষয়ে আপত্তি জানানো হলে পরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে তিনি মাথায় ও পিঠে আঘাত পান।

স্থানীয় বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, ভোট চাওয়ার সময় ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করায় আপত্তি জানানো হলে কিছুক্ষণ পর বাইরে থেকে লোকজন এসে হামলা চালায়। আরেক বাসিন্দা হাজী মোহাম্মদ মজিবুল হক বলেন, এ ঘটনায় তার ছেলে ও পুত্রবধূ আহত হয়েছেন।

আহত নেতা-কর্মীদের হাসপাতালে দেখতে গিয়ে ধানের শীষের প্রার্থী মো. শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই জামায়াতের পক্ষ থেকে উসকানিমূলক আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ঘটনাটি পরিকল্পিত এবং নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে বিএনপি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে চায় এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তিনি আরও বলেন, সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট হয়- এমন কোনো ঘটনা বিএনপি চায় না। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, জামায়াতের নারী কর্মীদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয়েছে এবং বিএনপির হামলায় নারীসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আফরিনা ইসলাম জানান, বিকেল পাঁচটার দিকে মারামারির ঘটনায় আহত নয়জন হাসপাতালে আসে। তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি করা হয়েছে।

আলমডাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হোসেন আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

Share This