প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের প্রতিবাদে শুক্রবার (২৪ জুলাই) সারা ভারতে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটি শিক্ষার্থী, যুবসমাজ ও সাধারণ নাগরিকদের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপি জানায়, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, সাম্প্রতিক প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে ঘিরে দেশজুড়ে ক্ষোভের মধ্যে এই বিক্ষোভের ঘোষণা এসেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি কঠোরতা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।সিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো তুলে ধরতে হবে। পাশাপাশি কর্মসূচি সফল করতে ছাত্র সংগঠন ও অন্যান্য সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগে, আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে শারীরিক অসুস্থতার কারণে কয়েক ঘণ্টার জন্য দিল্লির জন্তর মন্তরে চলমান বিক্ষোভ থেকে দূরে থাকার কথা জানান।
তিনি বলেন, কয়েক দিন ধরে জ্বর ও শারীরিক অসুস্থতা নিয়েই আন্দোলনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে সুস্থতার জন্য সাময়িক বিশ্রাম প্রয়োজন হওয়ায় কিছু সময়ের জন্য তিনি বিক্ষোভস্থলে থাকবেন না।
এদিকে, ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য সরকার চারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেছে। তবে এখন পর্যন্ত সিজেপির পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার পথ সব সময় খোলা রয়েছে। আন্দোলনকারীরা চাইলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডার বাসভবন বা কার্যালয়ে আলোচনায় বসতে পারেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলবে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। এ জন্য দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মোদির এই ঘোষণার পর সিজেপি আবারও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি তোলে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেন।