রাজধানীতে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উপলক্ষে বর্ণাঢ্য জসনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিউল আউয়াল মাসের ৯ তারিখ, ১৪৪৮ হিজরি মোতাবেক ২৩ আগস্ট (রবিবার) সকালে আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় এবং গাউসিয়া কমিটির সহযোগিতায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মোহাম্মদপুর কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদরাসা থেকে জসনে জুলুস শুরু হয়ে তাজমহল রোড, কৃষি মার্কেট, রিং রোড, শিয়া মসজিদ, মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড, সাত মসজিদ রোড, ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়ক, মিরপুর রোড, আসাদ গেট ও কলেজ গেট হয়ে শ্যামলী ক্লাব মাঠে গিয়ে শেষ হয়।
জুলুসে কলেমা ও ইসলামি স্লোগান খচিত রঙিন ব্যানার-পোস্টার নিয়ে অংশ নেন লাখো ধর্মপ্রাণ মানুষ। নারায়ে তাকবির ও নারায়ে রিসালতের স্লোগানের পাশাপাশি হামদ, নাতে রাসুল ও গজলে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো পথ।
জুলুস শেষে শ্যামলী ক্লাব মাঠে অনুষ্ঠিত মাহফিলে প্রধান অতিথি ও সভাপতির আসন অলংকৃত করেন হযরত আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ পীর সাবির শাহ (মা.জি.আ.)।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ কাসিম শাহ (মা.জি.আ.) ও সৈয়দ আকিব আহমদ শাহ (মা.জি.আ.)।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পীর সাবির শাহ বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) সমগ্র সৃষ্টির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে শ্রেষ্ঠ নিয়ামত ও রহমত। আল্লাহর এ মহান নিয়ামত লাভের আনন্দ প্রকাশ করাও তাঁর নির্দেশনার অংশ। তাই কোরআনের নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শুভাগমন দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করা হয়।
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শই শান্তি, সাম্য, মানবতা ও মুক্তির পথ। মহানবীর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে শান্তি, সম্প্রীতি, মানবিকতা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
পীর সাবির শাহ বলেন, উগ্রবাদ, সন্ত্রাস, অবিচার ও অন্যায় দূর করতে মহান আল্লাহ ইসলামকে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করেছেন। তাই ইসলামের নামে যেকোনো ধরনের উগ্রবাদ ও সন্ত্রাস সুফিবাদী সুন্নি মুসলমানরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে।
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মুফতি মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন আল-আযহারীসহ অন্যান্য ওলামায়ে কেরাম।
মাহফিল পরিচালনা করেন মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মুফতি আবুল কাশেম মোহাম্মদ ফজলুল হক।
বক্তারা মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মনজুর আলম, সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনসহ ট্রাস্ট ও গাউসিয়া কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, আলেম-ওলামা, গবেষক, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ ও মানবকল্যাণের শিক্ষা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং শান্তি, সম্প্রীতি ও নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়।
আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে জসনে জুলুসের আয়োজন প্রথম শুরু হয় চট্টগ্রামে, ১৯৭৪ সালে। পরবর্তীতে এ আয়োজন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে।
ঢাকার জুলুসে অংশ নিতে শনিবার থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মোহাম্মদপুরের কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদরাসায় আসতে শুরু করেন।
জুলুস ও মাহফিল শেষে সালাতু সালাম ও কিয়াম অনুষ্ঠিত হয়। পরে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত ও দোয়া পরিচালনা করেন পীর আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ।