সাইবার নিরাপত্তা জোরদার, দক্ষ জনবল তৈরি এবং গবেষণাকে দেশীয় প্রযুক্তি ও পণ্যে রূপান্তরের মাধ্যমে দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, পিএসসি, জি।
সোমবার (২০ জুলাই) সকালে রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসে অবস্থিত মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি) পরিদর্শনকালে তিনি এ আহ্বান জানান। সকাল ১০টায় এমআইএসটিতে পৌঁছালে প্রতিষ্ঠানটির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান, এসজিপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি তাকে স্বাগত জানান।
পরিদর্শনের শুরুতে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এমআইএসটির সাইবার রেঞ্জ ঘুরে দেখেন। এ সময় কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান সাইবার রেঞ্জের সক্ষমতা, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, গবেষণার সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তাকে ব্রিফ করেন।
ব্রিফিংয়ে সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলা, বাস্তবসম্মত প্রশিক্ষণ, দক্ষ জনবল তৈরি এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ডিজিটাল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাইবার রেঞ্জের ভূমিকা তুলে ধরা হয়।
এ সময় ড. শামছুল ইসলাম বলেন, বর্তমান বিশ্বে একটি দেশের নিরাপত্তা শুধু ভৌগোলিক সীমারেখায় সীমাবদ্ধ নয়; তথ্য, যোগাযোগব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামোর সুরক্ষাও জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি সাইবার নিরাপত্তায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা এবং দেশীয় প্রযুক্তি খাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তিনি এমআইএসটির ‘ম্যাভিরভ (MAVIROV)’ দলের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। দলটি তাদের উদ্ভাবনী কার্যক্রম, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে। পরে গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) শাখা পেটেন্ট ও উদ্ভাবনবিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রম উপস্থাপন করে। এতে শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি, গবেষণালব্ধ ধারণা এবং বাস্তব জীবনে প্রয়োগযোগ্য বিভিন্ন সমাধান তুলে ধরা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৩ থেকে ২৭ জুন কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডরে অনুষ্ঠিত MATEROV International Underwater Robot Competition 2026-এ এমআইএসটির MATEROV দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। বিশ্বের ১৬টি দেশের ৭৭টি দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দলটি উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তি, প্রকৌশল দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং অসাধারণ দলগত সমন্বয়ের মাধ্যমে শীর্ষস্থান অর্জন করে।
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, গবেষণার সাফল্য শুধু প্রতিবেদন বা প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। গবেষণাকে পেটেন্ট, ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি এবং দেশীয় পণ্যে রূপান্তর করতে হবে। এর মাধ্যমে দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি তরুণ উদ্ভাবকদের জন্য প্রয়োজনীয় গবেষণা সুবিধা, প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি জনকল্যাণ, দুর্যোগ মোকাবিলা, সাইবার নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও শিল্প খাতের বাস্তব সমস্যা সমাধানে গবেষণার পরিধি আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান।
পরিদর্শনের শেষ পর্যায়ে এমআইএসটির কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা, গবেষণা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাকে অবহিত করেন। তিনি শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্ভাবনী প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং পরে ম্যাভিরভ দলের সদস্য ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন। এ সময় এমআইএসটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।