বিতর্ক যেন পিছুই ছাড়ছে না ফেনী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক এম এ খালেকের। এবার বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুকে ‘প্রিয় নবী’ বলে মন্তব্য করে নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। তার ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন এম এ খালেক।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন,“অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বন, পরিবেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু আমার, আপনার, সবার প্রিয় নবী, প্রিয় মানুষ।”
তার এ বক্তব্যের পরপরই অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ফিসফাস ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নানা মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই এটিকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং শিরকের সঙ্গে তুলনা করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আলেম বলেন, “মানুষকে নবীর সঙ্গে তুলনা করা ইসলামের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের বক্তব্য ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে।”
এদিকে বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এম এ খালেকের বিভিন্ন বেফাঁস মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডে দল বারবার বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছে। এসব বক্তব্যের দায় দল নেবে না বলেও ইঙ্গিত দেন তারা।
এর আগে গত ১৬ এপ্রিল ফেনী সদর উপজেলার মোটবী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের দিয়ে তাকে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়াকে কেন্দ্র করে সমালোচনার জন্ম হয়। সাধারণত রাষ্ট্রপ্রধান, বিশিষ্ট ব্যক্তি বা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানাতে সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে এ ধরনের আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়। সেই প্রটোকল একজন জেলা পরিষদ প্রশাসককে দেওয়ায় নানা মহলে প্রশ্ন ওঠে।
এছাড়া গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এম এ খালেক ভুলবশত বিএনপিকেই “ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দল” বলে মন্তব্য করেন। পরে তিনি সেটিকে ‘স্লিপ অব টাং’ দাবি করে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন।