সবজির বাজারে আগুন, পেঁয়াজ-কাঁচা মরিচের দামেও ঊর্ধ্বগতি!

সবজির বাজারে আগুন, পেঁয়াজ-কাঁচা মরিচের দামেও ঊর্ধ্বগতি!

নিজস্ব প্রতিবেদক : July 24, 2026

টানা মৌসুমি বৃষ্টিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন কাঁচাবাজারে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে সবজির দাম। কোনো কোনো এলাকায় বাজারভেদে দাম কিছুটা কমবেশি দেখা গেছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ সবজির দাম কেজিপ্রতি ৮০ টাকার নিচে নেই। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের দাম। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কিনতে গিয়ে বাড়তি চাপের মুখে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।‎‎

 

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, বেগুন, করলা, শসা, বরবটি, ঢেঁড়স, কাঁকরোল, পটল, ঝিঙা, চিচিঙ্গাসহ বেশিরভাগ সবজি ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কিছু সবজির দাম আরও বেশি। অন্যদিকে মানভেদে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি এবং কাঁচা মরিচ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে।‎‎ এদিকে, সবজির এমন লাগামহীন দামে পেঁপে ও পটল কমদামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি পেঁপে ৪০ টাকা ও পটল ৬০ টাকা, এই দুই সবজি ছাড়া অন্য কোনো সবজি ৮০ টাকা কেজির নিচে নেই। বেশিরভাগ সবজির দাম ১০০ টাকার আশপাশে।‎‎ মোহাম্মদপুর টাউনহল কাঁচা বাজারে প্রতিকেজি বেগুন ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, ঝিঙ্গা ও চিচিঙ্গা ৮০ থেকে ১০০ টাকা ও করলা ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শসা ও গাজরও ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়াও ঝিগাতলা কাঁচাবাজারে প্রতিকেজি বেগুন ১২০-১৩০ টাকা, ঝিঙা ও চিচিঙ্গা ১২০ টাকা, করলা ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শশা ও গাজর ১৫০-১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ বাজারে কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।‎‎মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী অলিউল আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, আগে ৫০০ টাকায় যে পরিমাণ বাজার করা যেত, এখন একই বাজার করতে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা লাগছে। সবজির বাজারে এসে স্বস্তি নেই। গত শুক্রবারের বাজার ও আজকের বাজারে অনেক তফাৎ। একেবারে আকাশ পাতাল। 

ব্যবসায়ীদের জিজ্ঞেস করলে তারা বর্ষাকালের টানা বৃষ্টি ও বন্যার দোষ দিচ্ছেন। আসলে আমাদের দেশে কাঁচা বাজার তদারকি করার মতো কেউ নেই। এর ফলে যে যার মতো দাম বাড়িয়ে রাখছে।‎

 

‎ঝিগাতলা কাঁচা বাজারে আসা ক্রেতা ইরফানুল হক বলেন, কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে অনেক সবজির দাম ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সীমিত আয়ের মানুষের জন্য সংসারের খরচ সামলানো দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। বর্ষার অজুহাতে যেভাবে সবকিছুর দাম বাড়ছে এতে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে সবকিছু চলে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে স্বল্পআয়ের মানুষজন কীভাবে খাদ্যের চাহিদা মিটাবে।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা না হয় মুখ বুঝে সহ্য করে বাজারে এসে কম হলেও কিনে নিয়ে যাই। কিন্তু সরকার সীমিত আয়ের মানুষের কথা চিন্তা করে হলেও বাজার নিয়মিত মনিটরিং করানো উচিত। না হয় খুচরা বাজারে এসে পণ্যের দাম বহুগুণে বেড়ে যায়। এসব কিছুর একটা সুস্থ সমাধান করে ভোক্তাদের বাঁচানো উচিত সরকারের।‎‎এদিকে, ঝিগাতলা কাঁচাবাজার, মোহাম্মদপুর টাউন হল ও কৃষি মার্কেট ঘুরে কয়েকজন বয়বসায়ীর সঙ্গে কথা হয়। তারা মৌসুমের টানা বৃষ্টিকে বাজারে দাম বাড়ার জন্য দায়ী করছেন।‎‎

 

টাউন হল বাজারের ব্যবসায়ী কুদ্দুস মিয়া বলেন, মৌসুমি বৃষ্টি, বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে। ফলে খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এ ছাড়াও, অনেক সবজি আসতে আসতে পচে যায়। যার ফলে পাইকারি বাজারে নামতে নামতে কয়েকগুণ দাম বেড়ে যায়। এজন্য আমদেরও বাধ্য হয়ে খুচরা বাজারে দাম বাড়িয়ে রাখতে হয়।

Share This