পরশুরামে গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু

পরশুরামে গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু

ফেনী প্রতিনিধি : July 24, 2026

ফেনীর পরশুরামে এক স্কুল শিক্ষিকার বাসা থেকে ফারজানা আক্তার প্রিয়া (১৪) নামে এক কিশোরী গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ৯টার দিকে উপজেলা পরিষদ গেট সংলগ্ন কাদের টাওয়ারের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহত ফারজানা আক্তার প্রিয়া নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার সেবারহাট এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে। তবে ঘটনার পর দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও তার বাবা-মা বা নিকটাত্মীয়দের সন্ধান পায়নি পুলিশ।

জানা গেছে, প্রায় তিন বছর ধরে পরশুরাম উপজেলার মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহেদা আক্তার তিমুর বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিল প্রিয়া। শিক্ষিকা তার আট বছর বয়সী সন্তানকে নিয়ে ওই বাসায় থাকতেন, আর তার স্বামী ঢাকায় চাকরি করেন। ঘটনার পর পুলিশ শিক্ষিকা জাহেদা আক্তারকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, বাসার একটি কক্ষে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে বৈদ্যুতিক পাখার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় প্রিয়াকে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে ‘K+P’ লেখা একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। এ কারণে প্রাথমিকভাবে প্রেমঘটিত কোনো বিষয় এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত নয় এবং পুলিশ সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রিয়ার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর দুজনই আলাদা সংসার শুরু করেন। পরে তার নানি এক ব্যক্তির মাধ্যমে তাকে ওই শিক্ষিকার বাসায় কাজে দেন। এর আগে একবার প্রিয়া বাসা ছেড়ে চলে গেলে এ বিষয়ে পরশুরাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। পরে তাকে আবার কাজে ফিরিয়ে আনা হয়।

এছাড়া স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রিয়াকে প্রায়ই বকাঝকা করা হতো। বুধবার রাতেও বকাবকির পর সে বাসা থেকে বের হয়ে রাত পর্যন্ত ভবনের ছাদে অবস্থান করেছিল বলে তারা জানিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সহকারী শিক্ষক জাহেদা আক্তার তিমু বলেন, “সকালে প্রিয়াকে বাসায় রেখে আমি স্কুলে যাই। বিকেলে ফিরে অনেক ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় ভবনের কর্মচারীর সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে মরদেহ উদ্ধার করে।”

পরশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

Share This