সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় উচ্চ বেতনের চাকরির শতভাগ নিশ্চয়তার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫১টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, তিনটি স্মার্টফোন ও কয়েকটি রেজিস্টার উদ্ধার করা হয়েছে।
সিআইডির মানবপাচার শাখা (টিএইচবি) ইউনিট গত ২৩ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর বনানী থানার সৈনিক ক্লাব এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার পাঁচজনই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—বাগেরহাটের মোল্লারহাটের মো. শামীম (৪০), সুনামগঞ্জের মধ্যনগরের মো. রুহুল আমিন (২৪), টাঙ্গাইলের গোপালপুরের মো. হৃদয় হাসান (২৬), গাজীপুরের কাপাসিয়ার আবু রায়হান (২৯) এবং ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার মো. সানি মিয়া (২৫)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী একটি অনলাইন বিজ্ঞাপনে সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় মাসিক ২ হাজার ৫০০ রিয়াল বেতনে চাকরির শতভাগ নিশ্চয়তার কথা জানতে পারেন। বিজ্ঞাপনে দেওয়া মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে চক্রের এক সদস্য তাকে বনানীর সৈনিক ক্লাব এলাকায় তাদের অফিসে যেতে বলেন।
পরে সৌদি আরবে একটি কোম্পানিতে ড্রাইভিং ভিসায় চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীর সঙ্গে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার চুক্তি করা হয়। বিদেশ যাওয়ার আগেই পুরো টাকা পরিশোধের কথা বলে চক্রটি বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক ও নগদের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ২ লাখ ৬৬ হাজার টাকা নেয়।
তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ড্রাইভিং ভিসা না দিয়ে ভুক্তভোগীকে সৌদি আরবের ট্যুরিস্ট ভিসা দেওয়া হয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি বনানী থানায় মামলা করেন।
মামলায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর ১৫, ১৬, ১৯ ও ২০ ধারাসহ দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি একই কৌশলে বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কথা বলে আরও কয়েকজনের কাছ থেকে প্রায় ১৯ লাখ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছে। বিদেশে কর্মসংস্থানের আকর্ষণীয় প্রস্তাব ও অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করে অর্থ নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তির পাসপোর্ট সংগ্রহ করে নিজেদের হেফাজতে রাখত চক্রটি।
সিআইডি জানিয়েছে, মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্য, পলাতক আসামি, দেশি-বিদেশি সহযোগী এবং সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
বিদেশে কর্মসংস্থান, অভিবাসন বা ভ্রমণের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ কিংবা পাসপোর্ট হস্তান্তর না করার জন্য নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি। বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকার অনুমোদিত বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ভিসার নামে অস্বাভাবিক অঙ্কের অর্থ দাবি,
পাসপোর্ট জিম্মি করে রাখা, ভিসা জালিয়াতি, মানবপাচার বা অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার সন্দেহ হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সিআইডিকে অবহিত করার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।