জাতিসংঘের মহাসচিব হওয়ার দৌড় থেকে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল ব্যাচেলেট। নিরাপত্তা পরিষদের অনানুষ্ঠানিক ভোটাভুটিতে পিছিয়ে পড়ার পর তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নেন।
৭৪ বছর বয়সী বামপন্থী নেত্রী মিশেলকে গত ফেব্রুয়ারিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিকের প্রশাসন এই পদের জন্য মনোনীত করেছিল। ব্রাজিল ও মেক্সিকোর মতো লাতিন আমেরিকার বামপন্থী নেতাদের সমর্থনও পেয়েছিলেন তিনি। তবে পরবর্তীতে চিলির ক্ষমতার পরিবর্তনে নতুন কট্টর-ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট হোসে আন্তোনিও কাস্টের সরকার গত মার্চে বাশেলের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়। সম্প্রতি নিরাপত্তা পরিষদের অনানুষ্ঠানিক ভোটাভুটিতেও তিনি আটজন প্রার্থীর মধ্যে পেছনের সারিতে অবস্থান করছিলেন।
একটি ভিডিও বার্তায় প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে বাশেলে বলেন, কেউ কেউ মনে করতে পারেন এই পদটির জন্য এটি উপযুক্ত সময় ছিল না, তবে এই চ্যালেঞ্জটি নিতে পেরে আমার কোনো অনুশোচনা নেই। তিনি মনে করেন, তার এই প্রার্থিতার মাধ্যমে অন্তত জাতিসংঘের পরবর্তী প্রধান হিসেবে লাতিন আমেরিকার কোনো নারীকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি বৈশ্বিক আলোচনায় এসেছে।
জাতিসংঘের ৮০ বছরের ইতিহাসে এ পর্যন্ত কোনো নারী মহাসচিব পদে দায়িত্ব পাননি। ভৌগোলিক আবর্তনের প্রথা অনুযায়ী এবার শীর্ষ পদটিতে লাতিন আমেরিকার কারো আসার কথা রয়েছে।
বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে। মিশেল সরে দাঁড়ানোর পর বর্তমানে চারজন নারী ও তিনজন পুরুষ এই দৌড়ে রয়েছেন। নিরাপত্তা পরিষদের অনানুষ্ঠানিক ভোটাভুটিতে এখন পর্যন্ত কোস্টারিকার সাবেক উপরাষ্ট্রপতি রেবেকা গ্রিনস্প্যান এবং গায়ানার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যারোলিন রড্রিগেস-বার্কেট এগিয়ে আছেন।