ভারতের পাঞ্জাব বিজেপির চণ্ডীগড় কার্যালয়ের বাইরে একটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে, সেক্টর ৩৭ এলাকায়। হামলার কিছু ঘণ্টা পরেই খালিস্তানি নেতা সুখজিন্দর সিং বাব্বর এই গ্রেনেড হামলার দায় স্বীকার করে নেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুজন ব্যক্তি একটি মোটরসাইকেলে করে এসে নামে এবং একটি ক্রুড বোমা বা ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) ছুঁড়ে পালিয়ে যায়।
বাব্বর এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সুখজিন্দর সিং বাব্বর ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল চণ্ডীগড়ের সেক্টর ৩৭-এ সংঘটিত গ্রেনেড হামলার দায়িত্ব স্বীকার করছে। আমরা ভারতীয় প্রশাসনকে জানাতে চাই, তারা পাঞ্জাবের শিখ যুবকদের নির্মূল করতে যত কৌশলই নিক না কেন, দশম পিতার খালসা পন্থ এর যোগ্য জবাব দেবে।’
তিনি আরও ঘোষণা করেন, ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ গুরদাসপুরে দুই পুলিশ সদস্য হত্যার সন্দেহভাজন রঞ্জিত সিংকে ২৫ ফেব্রুয়ারি কথিত পুলিশি এনকাউন্টারে হত্যার প্রতিশোধ নেবেন। বাব্বর বলেন, ‘গুরদাসপুরে রঞ্জিত সিংয়ের হত্যাকারীরাও রেহাই পাবে না। দশম পিতার আশীর্বাদের হাত আমাদের মাথার উপর রয়েছে। পাঞ্জাবের মাটি খালসার মাটি। পাঞ্জাবে খালিস্তান প্রতিষ্ঠা হবেই!’
বিস্ফোরণে একটি গাড়ির জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং দুটি স্কুটারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে কেউ হতাহত হয়নি।
বিজেপির রাজ্য নেতা বিনিত জোশি জানান, বিকেল পাঁচটার দিকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর ধোঁয়া এবং যানবাহনের ক্ষতির কারণে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, ‘এখানে বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং প্রচুর ধোঁয়া দেখা গেছে। বিস্ফোরণের পর আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। একটি স্কুটি ও একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি উদ্বেগের বিষয়। পার্টি অফিসের কাছে বিস্ফোরণ সত্যিই গুরুতর উদ্বেগের কারণ। গত চার দিন ধরে বিজেপির রাজ্য ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট এখানে ছিলেন, এই সময়ে বিস্ফোরণ ঘটা অত্যন্ত চিন্তার বিষয়।’
পুলিশ ঘটনাস্থলের ঠিক বিপরীত দিকে একটি পেট্রোল পাম্পের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। সেখানে একজন ব্যক্তিকে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন এই ব্যক্তি হামলার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
ঘটনাস্থল থেকে শ্র্যাপনেলের টুকরো উদ্ধার করা হয়েছে এবং পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সেন্ট্রাল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির (সিএফএসএল) একটি দল সাক্ষ্য সংগ্রহ করতে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে সিআরপিএফ মোতায়েন করা হয়েছে। সিনিয়র সুপারিনটেন্ডেন্ট অব পুলিশ কানওয়ারদীপ কৌরসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।