পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, খাল পরিষ্কার, সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়নের উদ্যোগ সফল করতে নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে। সিটি কর্পোরেশন নাগরিকদের সেবা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করবে, পাশাপাশি নগরবাসীকেও পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সহযোগিতা করতে হবে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকায় প্যারিস খাল পুনরুদ্ধার অভিযান ও পরিষ্কার কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ফুটস্টেপসের উদ্যোগে ডিএনসিসি ও বিভিন্ন যুব সংগঠন ঢাকার উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকার খালগুলো পরিষ্কার করা, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফ্লাইওভারের নিচে অবহেলিত জায়গায় নগর বাগান তৈরি এবং সৌন্দর্যবর্ধনের বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, নগরবাসীকে সেবা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।
তবে উন্নয়ন কার্যক্রম, খাল পরিষ্কার, সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়নের কাজে নগরবাসীকেও পাশে থাকতে হবে। আমরা এর আগেও প্যারিস খাল অনেকবার পরিষ্কার করেছি।
প্রতিবারই এলাকার মানুষের কাছে অনুরোধ করেছি, খালে যত্রতত্র ময়লা ফেলবেন না। এসব ময়লা থেকে মশার প্রজনন হয়, যা শেষ পর্যন্ত নগরবাসীকেই ভোগান্তিতে ফেলে।
তিনি বলেন, ফুটস্টেপসের উদ্যোগে আগামী তিন দিন প্যারিস খাল পরিষ্কারের কার্যক্রম চলবে। এসময় এলাকার বাসিন্দাদের সহযোগিতা করতে হবে। পরিষ্কারের পর খালটি পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বও স্থানীয়দের নিতে হবে।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, আশপাশের পাঁচ-ছয়তলা ভবন থেকে খালে ময়লা ফেলার বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে কিছু তথ্যপ্রমাণও রয়েছে। ভবন থেকে খালে ময়লা ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সিটি কর্পোরেশন নগরবাসীকে একটি সুন্দর পরিবেশ, দৃষ্টিনন্দন খাল ও ভালো সড়ক উপহার দিতে চায়। অথচ সড়ক নির্মাণের পর সেখানে লোহার রডসহ বিভিন্ন জিনিস ফেলে সড়ক নষ্ট করা হচ্ছে।
মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে ক্লিন ঢাকা ও গ্রিন ঢাকা গড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নগরবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন। জনগণের সহযোগিতায় মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকার দীর্ঘদিনের দখল হওয়া ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। প্রায় দুই মাস ধরে সেখানে অবৈধ হকাররা বসতে পারেননি।
তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হয়েছে বলেই এ সাফল্য এসেছে। এ সচেতনতা ধরে রাখতে হবে। নগরবাসীর করের টাকায় সড়ক ও ফুটপাত নির্মাণ করা হয়। মানুষের হাঁটাচলার সুবিধা নিশ্চিত করতে অবৈধ দখলদারদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ কাজে নগরবাসীকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র আট মাস হয়েছে। এই সময়ে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব নয়। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সময় দিতে হবে। তিনি বলেন, যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
খালের সীমানা নির্ধারণ ও পুনরুদ্ধারপ্যারিস খালসহ বিভিন্ন খাল পুনরুদ্ধারে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, খালগুলোর সীমানা নির্ধারণের কাজ চলছে। আপাতত ডেঙ্গুর প্রভাব কমাতে খালগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা হচ্ছে। সীমানা নির্ধারণের কাজ শেষ হলে খাল রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, খালের পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং খালকে কেন্দ্র করে মানুষের হাঁটাচলার জন্য ওয়াকওয়ে তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এতে খালের সৌন্দর্য বাড়বে, আশপাশের পরিবেশ উন্নত হবে এবং মানুষ খালের পাশে সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন।
খালের সীমানা নির্ধারণে আগের ত্রুটি এবং অবৈধ স্থাপনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাকিবুল হাসানের নেতৃত্বে সীমানা পুনর্নির্ধারণের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির কাজ প্রায় শেষ। এখনো ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। সীমানা নির্ধারণ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট বাড়ি ও স্থাপনাগুলোর মালিকদের সঙ্গে কথা বলে সহযোগিতার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ডাস্টবিন স্থাপন ও ফ্রান্সের সহযোগিতার আশাখালের পাশে বসবাসকারীদের ময়লা ফেলার জন্য ডাস্টবিন না থাকার অভিযোগের বিষয়ে মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, এখনো প্রতিটি বাড়িতে ডাস্টবিন দেওয়ার সক্ষমতা সিটি কর্পোরেশনের হয়নি। বিভিন্ন স্থানে ডাস্টবিন বসানো হলেও অনেক সময় সেগুলো খুঁজে পাওয়া যায় না। এমনকি শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার পরও ডাস্টবিন হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, প্যারিস খালের পাশে একটি ডাস্টবিন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যেক বাসিন্দা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে নিজ উদ্যোগে নিজেদের বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানের সামনে ডাস্টবিন রাখার আহ্বান জানান তিনি।
প্যারিস খালকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সের সহযোগিতায় কোনো প্রকল্প নেওয়া হবে কি না– এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত প্যারিস খাল পরিদর্শনে এসেছেন। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের সঙ্গে নামের মিল থাকায় তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি আগ্রহ প্রকাশ করে এসেছেন এবং তার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগে ফ্রান্স সহযোগিতা করবে।
প্যারিস খাল পরিষ্কার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও দৃষ্টিনন্দন নগর গড়ার উদ্যোগ বাস্তবায়নে নগরবাসীর সক্রিয় সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন শফিকুল ইসলাম খান।
খাল পরিদর্শনে এসে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের অ্যাম্বাসেডর (রাষ্ট্রদূত) জঁ-মার্ক সেরে-শার্লে বলেন, খাল সংস্কারে ফ্রান্স সহযোগিতা করবে।