শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ১২ নভেম্বর

শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ১২ নভেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক : August 12, 2025

২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যা-নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ এই মামলার অপর আসামিদের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১২ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউশনের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন।

ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মহিতুল হক এনাম চৌধুরী।আদালতে আজ রাষ্ট্র পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম শুনানি করেন। এ সময় চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার , প্রসিকিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান ও বি এম সুলতান মাহমুদ প্রমুখ প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন।

 

এদিন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ এই মামলার ২১ আসামির মধ্যে গ্রেফতার চারজন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

শুনানির সময় ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক ও পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম।

এর আগে, ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরসহ সারা দেশে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের হত্যা-নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা (মিস কেস) হয়েছে। মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারসহ নয়জনকে আসামি করা হয়েছে। ৯ আসামির মধ্যে ৪ জন বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার আছেন। বাকি ৫ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

যে পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তারা হলেন- ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার ও সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ।

এর আগে ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর হেফাজতে ইসলামের নেতা জুনায়েদ আল হাবিবী ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে আজিজুল হক ইসলামাবাদী এ অভিযোগ দায়ের করেন। এর আগে মুফতি হারুন ইজহারের পক্ষে ট্রাইব্যুনালে আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেন।

এ ছাড়াও ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচি ঘিরে ‘নির্বিচারে হত্যা ও লাশ গুম করে গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে’র অভিযোগ আনা হয়েছে পদত্যাগ করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ রাজনীতিবিদ, সাবেক সেনা কর্মকর্তা, সাবেক মন্ত্রী, পুলিশ, সাংবাদিক, আইনজীবী এবং গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠকদের বিরুদ্ধে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ধানমন্ডির তদন্ত সংস্থায় একই বছরের ২০ আগস্ট এ সংক্রান্ত বিষয়ে আবেদন করেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি হারুন ইজহার চৌধুরী। তার পক্ষে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গাজী এম এইচ তামিম। তিনি জাগো নিউজেক আবেদনের তথ্য নিশ্চিত করেন।

অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক এমপি হাজী সেলিম, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, নারায়ণগঞ্জের সাবেক এমপি শামীম ওসমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহমেদ, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশীদ, ডিএমপির সাবেক উপকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, নির্মূল কমিটির সদস্য অধ্যাপক মুনতাসির মামুন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ইমরান এইচ সরকার, একাত্তর টিভির সাবেক সিইও মোজাম্মেল হক বাবু, সময় টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আহমেদ জোবায়ের, এবিনিউজ২৪ ডটকমের সম্পাদক সুভাস সিংহ রায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নাইমুল ইসলাম খান, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ এবং এনএসআইয়ের মো. মনজুর আহমেদকে আসামি করা হয়েছে।

Share This