শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির মিছিল

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির মিছিল

আন্তজার্তিক ডেস্ক : July 20, 2026

ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ডাকে আজ পার্লামেন্ট অভিমুখে বড় মিছিল হওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের দাবি, এতে হাজারো শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সমাজকর্মী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন।

 

মিছিলকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে শত শত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য।

 

বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, এই মিছিলের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।

 

তিনি হাসপাতালেও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। সোমবারের মিছিলে তার স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো অংশ নিতে পারেন বলে জানা গেছে।

ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বলেন, সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দিয়ে মিছিলে যোগ দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। তিনি নিজেও অনশনে বসার ঘোষণা দিয়েছেন।

যন্তর মন্তরের সমাবেশে হাতে ভারতের জাতীয় পতাকা ও সংবিধান তুলে ধরে অভিজিৎ দিপকে আন্দোলনের এই পর্যায়কে ‘প্রথম বিজয়’ বলে অভিহিত করেন।

সোনম ওয়াংচুক জানিয়েছেন, তিনটি শর্তের যেকোনো একটি পূরণ হলে তিনি অনশন ভাঙবেন।

শর্তগুলো হলো-

শিক্ষা ব্যবস্থার সাম্প্রতিক ব্যর্থতার দায় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করবে।তিনি এবং ককরোচ জনতা পার্টির নেতারা পার্লামেন্টে পৌঁছাতে পারবেন এবং সংসদ সদস্যরা বিষয়টি উত্থাপনের আশ্বাস দেবেন।অথবা সংসদ সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে একই ধরনের আশ্বাস দেবেন।

গত মে মাসে বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের প্রতিবাদে অনলাইনে ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন হিসেবে ককরোচ জনতা পার্টির যাত্রা শুরু হয়। পরে এটি দেশজুড়ে বড় আন্দোলনে রূপ নেয়। তাদের প্রধান দাবি, শিক্ষা ব্যবস্থার সাম্প্রতিক ব্যর্থতার দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

 

তবে ধর্মেন্দ্র প্রধান আন্দোলনকারীদের গুরুত্ব না দিয়ে তাদের ‘বিশৃঙ্খলাকারী শক্তির বি-টিম’ বলে মন্তব্য করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারও এখন পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনায় বসেনি।

ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ। মে মাসের শুরুতে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করা হয়, যাতে প্রায় ২২ লাখ ৮০ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। পরে ২১ জুন পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়।

আন্দোলনকারীদের দাবি, ওই ঘটনার মানসিক চাপে ২০ জনের বেশি শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।

 

শনিবার সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার পর আন্দোলন আরও জোরালো হয়েছে। অভিজিৎ দিপকে ঘোষণা দিয়েছেন, এখন তারা শুধু শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগও দাবি করবেন।

Share This