২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে জনকল্যাণমুখী উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এ কে এম আমিনুল হক বলেছেন, অর্থনীতি গতিশীল রাখা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মোট আয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা এবং মোট ব্যয় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয়ে বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ৬৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং উন্নয়ন ব্যয়ে ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ।
বাজেটে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে ফ্রিল্যান্সার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের আয়কর ও ভ্যাটে ছাড়ের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া সৌরবিদ্যুৎ খাতে ব্যবহৃত উপকরণ আমদানিতে বিভিন্ন ধরনের শুল্ক ও কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, যার ফলে উৎপাদন ব্যয় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খাদ্যপণ্যসহ প্রায় ৬০টি পণ্যে উৎসে কর কমানো হয়েছে। বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) খাতেও কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মোবাইল সিমে আরোপিত ৩০০ টাকার কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।
সংশোধিত বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। অনলাইন ভিডিও সেবা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপনের ওপর ভ্যাটও ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাজেটে কিছু দুর্বলতাও রয়েছে। এর মধ্যে বড় বাজেট ঘাটতি, ব্যাংক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর সুস্পষ্ট উদ্যোগের অভাব অন্যতম।
তাদের মতে, ঘোষিত বিভিন্ন উদ্যোগের বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা থাকলে বাজেট আরও কার্যকর হতে পারত।