পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ নেই: গভর্নর

পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ নেই: গভর্নর

নিজস্ব প্রতিবেদক : May 12, 2026

শরিয়াহ ভিত্তিক পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

সোমবার ব্যাংক উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সঙ্গে বৈঠকে এ কথা জানান তিনি।

বিএবি ও ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকারের নেতৃত্বে বৈঠকে হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক এ কে আজাদ, পূবালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মনজুরুর রহমান, বিএবির ভাইস চেয়ারম্যান ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান শরীফ জহির, ব্যাংক এশিয়ার চেয়ারম্যান রোমো রউফ চৌধুরীসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণ বা মার্জার নিয়ে কোনো কথা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে আব্দুল হাই সরকার বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা মার্জার নিয়ে কথা বলেছি। ৫টি ব্যাংক একীভূত করার যে সিদ্ধান্ত অলরেডি হয়ে গেছে, সেটা নিয়ে তিনি (গভর্নর) বলেছেন যে এটা এখন আর পরিবর্তনের সুযোগ নেই।

‘তবে ভবিষ্যতে অন্য কোনো ব্যাংকের ক্ষেত্রে মার্জার করার আগে যেন সেটা অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে করা হয় এবং স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলা হয়, সেই পরামর্শ আমরা দিয়েছি। এ বিষয়ে তিনি (গভর্নর) আমাদের সঙ্গে একমত হয়েছেন এবং জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তাহলে সব পক্ষের মতামত নিয়ে করা হবে।’

আব্দুল হাই সরকার আরো জানান, বন্ধ কারখানা সচল করতে নতুন তহবিল গঠন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো চলতি মূলধন সহায়তা দেবে। তবে কেন কারখানা বন্ধ হয়েছে? তা বিবেচনায় নেবে।

বৈঠকে ব্যাংকিং খাতের বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ কাঠামোগত সংস্কার নিয়েও আলোচনা হয়।

প্রসঙ্গত, আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর পাঁচটি ব্যাংক (এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক) একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। এর মধ্যে এক্সিম ব্যাংক পরিচালিত হতো নাসা গ্রুপের কর্ণধার নজরুল ইসলাম মজুমদারের নেতৃত্বে। আর বাকি চারটি ব্যাংক ছিল এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে।  

ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকেই এ নিয়ে নানা ধরনের বিতর্ক ও সমালোচনা দেখা দেয়। তবে, সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে অন্তর্বর্তী সরকার এসব বিতর্কে গুরুত্ব না দিয়ে নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এবং শেষ পর্যন্ত ব্যাংকটিকে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নিয়ে আসে। গত বছরের নভেম্বরে প্রশাসকরা আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন ব্যাংকের দায়িত্ব নেন।  

Share This