হরমুজ অবরোধের মাঝে ইরানকে নতুন বাণিজ্য পথ খুলে দিল পাকিস্তান

হরমুজ অবরোধের মাঝে ইরানকে নতুন বাণিজ্য পথ খুলে দিল পাকিস্তান

আন্তজার্তিক ডেস্ক : May 02, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধে ইরানের বন্দরগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পাকিস্তান ইরানগামী পণ্যের জন্য ছয়টি স্থল রুট আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দিয়েছে। করাচি বন্দরে হাজার হাজার কন্টেইনার আটকে আছে। সেগুলো সরাতেই মূলত এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

 

পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২৫ এপ্রিল ‘ট্রানজিট অব গুডস থ্রু টেরিটরি অব পাকিস্তান অর্ডার ২০২৬’ জারি করেছে। এই আদেশ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। এতে তৃতীয় দেশ থেকে আসা পণ্য পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে সড়কপথে ইরানে পাঠানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

 

সীমান্তে পৌঁছাতে মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টা লাগবে। করাচি থেকে ইরান সীমান্তে পৌঁছাতে সাধারণত ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা লাগে। কর্মকর্তাদের মতে, গোয়াদর-গাবদ রুটে পরিবহন খরচ করাচি থেকে তুলনায় ৪৫ থেকে ৫৫ শতাংশ কমে আসবে।

এই ঘোষণা এমন সময় এলো যখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দুই মাসের যুদ্ধ শেষ করতে পাকিস্তান মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান এই উদ্যোগকে ‘আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াতে এবং পাকিস্তানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য করিডোর হিসেবে ভূমিকা শক্তিশালী করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন।

উল্লেখ্য, ভারত থেকে আসা পণ্য এই ট্রানজিট সুবিধার আওতায় নেই। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর জারি করা এক আদেশে ভারতীয় পণ্যের পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে পরিবহন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

এই বছরের ১৩ এপ্রিল ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করে। এতে ইরানের সামুদ্রিক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে করাচি বন্দরে ইরানগামী ৩ হাজারেরও বেশি কন্টেইনার আটকে আছে।

বিশ্লেষক ইফতিখার ফিরদৌস বলেছেন, ‘এটি একটি বড় পরিবর্তন। পাকিস্তান এখন পশ্চিমমুখী বাণিজ্যের জন্য আফগানিস্তানকে পুরোপুরি এড়িয়ে যেতে পারবে। কাবুলের ট্রানজিট গুরুত্ব ও আয়ের উপর এর প্রভাব তাৎক্ষণিক নয়, কিন্তু কৌশলগত দিক থেকে এটি বাস্তব।’ 

তিনি আরও বলেছেন, এই করিডোর পাকিস্তানকে চীন-সমর্থিত বাণিজ্য রুটের মাধ্যমে পশ্চিম এশিয়ায় প্রবেশের প্রধান স্থল প্রবেশদ্বার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

তবে পেশোয়ারভিত্তিক বিশ্লেষক মিনহাস মাজিদ মারওয়াত সতর্কতার কথা বলেছেন। তিনি এক্স-এ লিখেছেন, ‘এই সুযোগ বাস্তব। ঝুঁকিও বাস্তব। উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এমন একটি বিষয় যা সবকিছু এলোমেলো করে দিতে পারে।’

Share This