মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক তেলবাজারে আবারও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) লেনদেনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ০.৬৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৭৩ ডলারে পৌঁছায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ফিউচার ০ দশমিক ৩২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৬ দমমিক ১৭ ডলারে দাঁড়ায়।
এদিকে, ইসরায়েল ও লেবানন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়েছে। হোয়াইট হাউসের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, আলোচনাটি ইতিবাচক হয়েছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের জন্য আরও সময় দেওয়া হবে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবে পরিস্থিতি এখন নৌ অবরোধে রূপ নিয়েছে। উভয় পক্ষই অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে চায়, যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়বে এবং এক পর্যায়ে কোনো এক পক্ষকে পিছু হটতে বাধ্য হতে হতে পারে। তবে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হলে মার্কিন ডলারের মান আরও বেড়ে যেতে পারে।
আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা-এর প্রধান ফাতিহ বিরল সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্ব এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি নিরাপত্তা সংকটের মুখোমুখি। তার মতে, প্রতিদিন প্রায় ১৩ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ পণ্য সরবরাহেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এই সংকট মোকাবেলায় দেশগুলোকে বিকল্প জ্বালানি উৎসের দিকে দ্রুত ঝুঁকতে হবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে।