হরমুজ হামলার জেরে ইরানে মার্কিন পাল্টা হামলা

হরমুজ হামলার জেরে ইরানে মার্কিন পাল্টা হামলা

আন্তজার্তিক ডেস্ক : June 27, 2026

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজে হামলার পর ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে ঘটনাটিকে ‘বোকামিপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলে মন্তব্য করেছেন।

 

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শুক্রবার জানায়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ হামলা বিচ্ছিন্ন কোনো পদক্ষেপ নাকি বড় ধরনের কোনো সামরিক অভিযানের অংশ, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

 

গত বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালিতে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ এভার লাভলি ড্রোন হামলার শিকার হয়। জাহাজটির মালিক প্রতিষ্ঠান এভারগ্রিন জানিয়েছে, হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। জাহাজ, নাবিক ও পণ্যসামগ্রী নিরাপদ রয়েছে।

 

শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘গতকাল তারা গুলি চালিয়েছে। তাদের এটা করা উচিত হয়নি।’ যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেবে কি না-এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখতে পাবেন।’

 

সেন্টকম এক বিবৃতিতে এই হামলাকে ‘শক্তিশালী জবাব’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে ইরানি বাহিনীর অযৌক্তিক আগ্রাসন স্পষ্টভাবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।’

 

এতে আরও বলা হয়, ‘ইরানের এই বিপজ্জনক আচরণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচলের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করছে।’

সেন্টকম জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

 

শুক্রবার পরে আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘চুক্তিভঙ্গকারী মার্কিন সরকার সবসময়কার মতো তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে এবং বিভিন্ন অজুহাতে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের উপকূলে বিমান হামলা চালিয়েছে।’

তারা আরও বলে, ‘এ ধরনের আগ্রাসন পুনরাবৃত্তি হলে আমাদের প্রতিক্রিয়া আরও ব্যাপক হবে।’ আইআরজিসি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে।

এদিকে শুক্রবার ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি শান্তি কাঠামো চুক্তি সই করেছে। যদিও বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে সীমিত সংঘর্ষ চলছিল।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যৌথভাবে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এরপর তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।

তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যায় এবং সারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হয়।

যুদ্ধ বন্ধে গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ওই সমঝোতায় ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে ইরানকে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়।

 

মার্কিন পাল্টা হামলার পর সামাজিক মাধ্যম এক্সে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স লেখেন, ‘সমঝোতা স্মারক কীভাবে প্রয়োগ হচ্ছে তা নিয়ে ইরানের কোনো আপত্তি থাকলে তারা ফোন করতে পারে। কিন্তু সহিংসতার জবাব সহিংসতাই হবে।’

অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘আলোচনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির এই বেপরোয়া লঙ্ঘনের পরিণতিতে বরাবরের মতো তাদের পিছু হটতে হবে এবং অনুতপ্ত হতে হবে। দোষারোপের রাজনীতি আর কাজ করবে না।’

শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প ড্রোন হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নেবে কিংবা যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল আছে কি না-এসব প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি।

তিনি বলেন, ‘আপনারা জানতে পারবেন। গতকাল তারা গুলি চালিয়েছে, এটা আমার পছন্দ হয়নি। তাদের এটা করা উচিত ছিল না।’

ইরান কেন এমন অভিযান চালাতে পারে-এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প শুধু বলেন, ‘তারা একটু ভিন্ন ধরনের।’

Share This