রাজধানীর রায়েরবাজার গোরস্থান-সংলগ্ন এলাকায় এক অসহায় দম্পতির বসতঘর ভাঙা, দখলবাজি ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন ঢাকা মহানগর উত্তর মোহাম্মদপুর থানার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবং সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুম খান রাজেশ।
বুধবার (৫ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, একটি ঠিকানাবিহীন ফেসবুক পেজ থেকে পরিকল্পিতভাবে তার, স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী এবং শ্রমিক দলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দাবি করা হয়, রায়েরবাজার গোরস্থান-সংলগ্ন এলাকায় রাজেশ খান ও তার সহযোগীরা এক অসহায় দম্পতির বসতঘর ভেঙে দিয়েছেন এবং এলাকায় দখলবাজি ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। তবে এ অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করে সংশ্লিষ্ট দম্পতির বরাত দিয়ে দাবি করা হয়, ভিডিওতে প্রচারিত তথ্যের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।
বিবৃতিতে বলা হয়, ভুক্তভোগী দম্পতি জানিয়েছেন যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাদের দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ঘটনাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশের ভাষ্য অনুযায়ী, যাচাই-বাছাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ব্যক্তির সম্মানহানি এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। তারা এ ধরনের অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
এলাকাবাসীর দাবি, অ্যাডভোকেট মাসুম খান রাজেশের রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা ও জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় একটি মহল পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে গুজব ছড়াচ্ছে। তাদের ভাষ্য, ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের আগেই কঠিন রাজনৈতিক সময়ে রাজেশ ও মোহাম্মদ ওসমান রেজা দলীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে যথাক্রমে ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং দীর্ঘদিন ধরে ওয়ার্ডে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
অ্যাডভোকেট মাসুম খান রাজেশ বলেন, “একটি কুচক্রী মহল দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকাবাসীর ভালোবাসা ও সমর্থনে আমাদের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা ভীত হয়ে ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক তথ্য ছড়াচ্ছে। প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের প্রতি আমার আহ্বান, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো গুজবে বিভ্রান্ত হবেন না। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
৩৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ওসমান রেজা বলেন, “আমাদের রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। গোরস্থান-সংলগ্ন এলাকার ঘটনার সঙ্গে আমাদের বা দলের কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা নেই।”
অন্যদিকে শ্রমিক দলের নেতা মো. রুবেল ব্যাপারীও তার বিরুদ্ধে আনা চাঁদাবাজি ও দখলবাজির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “একটি নামসর্বস্ব ফেসবুক পেজ থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”