নৌ বাহিনী প্রধানকে নিয়ে “বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নাজমুল হাসান দুর্নীতির সুবিধাভোগী হিসেবে এসিসি তদন্তে নাম এসেছে,” শিরোনামে কিছু অনলাইন পোর্টালের প্রতিবেদন এবং তথ্যের সত্যতা যাচাই এ অনুসন্ধান!

নৌ বাহিনী প্রধানকে নিয়ে “বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নাজমুল হাসান দুর্নীতির সুবিধাভোগী হিসেবে এসিসি তদন্তে নাম এসেছে,” শিরোনামে কিছু অনলাইন পোর্টালের প্রতিবেদন এবং তথ্যের সত্যতা যাচাই এ অনুসন্ধান!

মো : শাহিদুন আলম April 21, 2026

হলুদ সাংবাদিকতা বা ইয়েলো জার্নালিজম দেখতে কেমন হয় সেটা ২০ এপ্রিল অখ্যাত অনলাইন পোর্টাল দিনপএের করা চন্দন নন্দির এই প্রতিবেদনটা পড়লে খুব ভালো করে বুঝতে পারবেন। সেনসেশনাল শিরোনাম, অতি দূর্বল গবেষণা, স্ক্যান্ডাল নির্ভর তথ্য এবং তাতে কিছু জ্ঞানপাপীর গুরুত্বারোপ, মেকি আবেগী হওয়ার চেষ্টা-সর্বোপরি বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রিপোর্টিংয়ের সকল কিছুই এতে মিশ্রিত আছে। 

গত ৫ আগষ্ট ২০২৪ বাংলাদেশকে কঠিন এক পরিস্থিতির হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন, নৌ বাহিনীকে একটি সুশৃংখল বাহিনীতে রূপান্তর করেন। নিজ মনণ ও মেধা দিয়ে বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র হওয়ার পরিস্থিতি থেকে বাঁচিয়েছিলেন তিনি। 

অখ্যাত অনলাইন পোর্টাল দিনপএের বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নাজমুল হাসান দুর্নীতির সুবিধাভোগী হিসেবে এসিসি তদন্তে নাম এসেছে।

এটি নিয়ে বিশাল এক রিপোর্ট করেছে যা অসত্য তথ্য দিয়ে গরুর রচনার ন্যায় তৈরী, বিভ্রান্তমূলক এবং উদ্দ্যেশ্যপ্রনোদিত।

অখ্যাত অনলাইন পোর্টাল দিনপএের পত্রিকা প্রতিবেদনের সত্যতা জানতে সরেজমিনে অনুসন্ধান করে জানা যায়, পত্রিকার নিউজটি সম্পূর্ণ অসৎউদ্দেশ্য প্রণোদিত যাহা তথ্য প্রমাণ সহ এখানে তুলে ধরা হলো।    

দিনপএ' নামে যে পত্রিকাটি এই প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছে, তারা মূলত পতিত আওয়ামী লীগের পারপাস সার্ভ করার জন্য প্রতিষ্ঠিত এবং এর ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে বিগত সরকারের গুণকীর্তন করা হয়। ইতিমধ্যে উক্ত পেইজটির একাধিক কন্টেন্ট ফেসবুক ফ্যাক্ট চেকে ফেইক প্রমানিত হয়েছে। আর ‘নর্থইস্ট নিউজ’ একটি অনলাইন পোর্টাল যা বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীকে নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে মিথ্যাচার করে চলেছে।

এবার আসা যাক গর্তবাধা কল্পকাহিনীতে, প্রতিবেদনে দুর্নীতির কোনো অফিসিয়াল রেফারেন্স, ডকুমেন্ট নম্বর বা স্বীকৃত সূত্র উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে বুঝতে আর কিছুই বাকি থাকে না- এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সম্পূর্ণভাবে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। 

এতে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। কিন্তু কোন সম্পদ, কোথায়, কীভাবে অর্জন করেছেন তার ছিটেফোঁটাও উল্লেখ করতে সেই পত্রিকাটি। তাই পরিস্কারভাবে বলা যায়, এসব অভিযোগের ফিরিস্তি কল্পকাহিনী ছাড়া আর কিছুই নয় হতে পারে না।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা অত্যন্ত জরুরি। অথচ এখানে তথ্য যাচাইয়ের ন্যূনতম মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি। মন চেয়েছে আর লিখে দিয়েছে অমুক এই এই করেছে। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

এ ধরনের অপপ্রচার থেকে সচেতন থাকা প্রয়োজন। বর্তমান বাস্তবতায় যে কোনো সংবাদ বিশ্বাস করার আগে ক্রসচেক জরুরি। এই ক্লিকসাইটের যুগে এসব ভুইফোড় প্রতিষ্ঠান রীতিমতো রাজনৈতিক এবং ঘৃণা ছড়ানোর হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। তাই অপপ্রচারে কান দেওয়ার আগে সত্য জানুন ও সচেতন থাকুন।

Share This