তৃণমূল স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী হলেই সহজ হবে ক্যানসার প্রতিরোধ

তৃণমূল স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী হলেই সহজ হবে ক্যানসার প্রতিরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক : May 17, 2026

ক্যানসার প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে মূল ভিত্তি হিসেবে ধরে কাজ করছে বলে বৈশ্বিক মঞ্চে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

শনিবার (১৬ মে) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় কমনওয়েলথ হেলথ কোঅর্ডিনেশন ফোরামে ‘কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোতে ক্যানসার চিকিৎসা’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিয়ে এক বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

কমনওয়েলথ হেলথ কোঅর্ডিনেশন ফোরাম আয়োজিত এই সভায় বাংলাদেশসহ কমনওয়েলথের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং নীতি-নির্ধারকগণ আলোচনায় অংশ নেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বাংলাদেশের পক্ষে দেওয়া তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন, সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা (ইউএইচসি) এবং একটি শক্তিশালী স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ক্যানসার চিকিৎসা সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং জনবান্ধব করতে একে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোর সঙ্গে একীভূত করা অপরিহার্য।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ২০২২ সালের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, বাংলাদেশে বছরে বিপুল সংখ্যক মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং এক লাখ ১৬ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্যানসারজনিত কারণে মারা যাচ্ছেন। সময়মতো রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার অভাব এবং উচ্চ চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে এই চ্যালেঞ্জ আরো প্রকট হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় ক্যানসার ব্যবস্থাপনা গাইডলাইন এবং সমন্বিত এনসিডি (অসংক্রামক ব্যাধি) কৌশল প্রণয়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া তথ্যভিত্তিক সঠিক পরিকল্পনার জন্য হাসপাতাল-ভিত্তিক ক্যানসার রেজিস্ট্রি ক্রমান্বয়ে সম্প্রসারিত হচ্ছে।


 

জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে সরকারের বড় সাফল্যের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশজুড়ে লাখ লাখ কিশোরীকে লক্ষ্য করে আমরা বড় পরিসরে এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচি চালু করেছি।

এ ছাড়া জরায়ুমুখ, স্তন এবং মুখের ক্যানসার স্ক্রিনিং ও প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ের জন্য কমিউনিটি-ভিত্তিক উদ্যোগ জোরদার করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী স্বাস্থ্য খাতের কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও অকপটে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, বিশেষায়িত অবকাঠামোর ঘাটতি, দক্ষ জনবলের অভাব, অসমান সেবা বণ্টন এবং অতিরিক্ত চিকিৎসা ব্যয়ের (Out of pocket expenditure) মতো বড় চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের প্রধান শহরগুলোর বাইরে ক্যানসার চিকিৎসাকে বিকেন্দ্রীকরণ এবং প্যাথলজি ও অনকোলজি খাতের উন্নয়নে কাজ চলছে।

ক্যানসার নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতা বলেন, দক্ষ জনবল তৈরি, ক্যানসার গবেষণা, ডিজিটাল হেলথ এবং স্ক্রিনিং কার্যক্রম জোরদারে কমনওয়েলথ দেশগুলোর একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনে কমনওয়েলথ সদস্য রাষ্ট্র, উন্নয়ন সহযোগী, শিক্ষাবিদ এবং সুশীল সমাজের সঙ্গে একযোগে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার র্ব্যক্ত করেন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।

Share This