সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সামরিক বাহিনীর শীর্ষ ব্যক্তিদের পরিচয় ব্যবহার করে চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা ও কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন মো. তারেক সরকার (৪০) ও তার সহযোগী মো. পলাশ কবির (৪২)।
সোমবার (২৫ মে) কেরানীগঞ্জে র্যাব-১০ সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১০ এর অধিনায়ক মো. কামরুজ্জামান এসব তথ্য জানান।
র্যাব জানায়, গ্রেফতার তারেক সরকার নরসিংদী সদর এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য। ২০০৬ সালে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত হওয়ার পর তথ্য গোপন করে কারা অধিদপ্তরে চাকরি নেন। সেখানে প্রায় ১৪ বছর কর্মরত থাকার পর বিভাগীয় মামলার কারণে সেখান থেকেও চাকরিচ্যুত হন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি সরকারি কর্মকর্তা ও সামরিক বাহিনীর শীর্ষ ব্যক্তিদের পরিচয়ে প্রতারণার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। বিভিন্ন মোবাইল সিম ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে সাধারণ মানুষ ও চাকরিপ্রত্যাশীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। পরে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় প্রশাসনিক কাঠামো, পদমর্যাদা ও দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পর্কে তার সুস্পষ্ট ধারণা ছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি তথাকথিত ‘ভিআইপি’ সিম ব্যবহার করে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় ব্যবহার করতেন এবং চাকরির সুপারিশের নামে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারেক সরকার স্বীকার করেছেন, গত ছয় বছর ধরে তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় এক থেকে দেড় কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন।
র্যাব জানায়, বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে গত ২৪ মে নরসিংদীর সঙ্গীতা মোড় এলাকা থেকে তারেক সরকারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার বাসায় অভিযান চালিয়ে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও আলামত জব্দ করা হয়।
জব্দকৃত আলামতের মধ্যে উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের সঙ্গে ফটোশপে সম্পাদিত একটি বাধাই করা ছবিও পাওয়া গেছে, যা ব্যবহার করে তিনি নিজের প্রভাব ও যোগাযোগের ভুয়া ধারণা তৈরি করতেন বলে জানিয়েছে র্যাব।
তারেক সরকারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তার সহযোগী মো. পলাশ কবিরকেও গ্রেফতার করা হয়। র্যাব জানিয়েছে, প্রতারণা কার্যক্রমে তিনিও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।
গ্রেফতার দুই আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।