জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে ইয়াসিন গ্রুপের হামলা

জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে ইয়াসিন গ্রুপের হামলা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : May 25, 2026

সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যৌথ বাহিনীর একটি ক্যাম্পে গুলি চালিয়েছে সন্ত্রাসী ইয়াসিন গ্রুপ।

 

রোববার (২৪ মে) দিবাগত রাত একটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

 

এ সময় যৌথ বাহিনীর সঙ্গে দুই ঘণ্টা গুলিবিনিময় হয়েছে। রোববার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে র‍্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, রোববার দিবাগত রাত একটার দিকে সন্ত্রাসী ইয়াসিন গ্রুপ জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছে।

 

বর্তমানে যৌথ বাহিনী ভেতরে প্রবেশ করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গোলাগুলির একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যৌথ বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

 

পরে অভিযান চালিয়ে ক্যাম্পের আশপাশ এলাকায় প্রবেশ করে যৌথ বাহিনী। তবে এ ঘটনায় হতাহত কিংবা কাউকে আটক করার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

 

প্রসঙ্গত, গত ৯ মার্চ ভোর সাড়ে ৫টা থেকে সীতাকুণ্ড মডেল থানাধীন জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় তৎকালীন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এবং বর্তমানে র‍্যাবের মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তিনটি হেলিকপ্টার নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ অভিযানে অংশ নেয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪৮৭ জন সদস্য, জেলা পুলিশের ১৪৬ জন সদস্য, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ৮০০ জন সদস্য, আরআরএফ চট্টগ্রামের ৪০০ জন সদস্য, ফেনী জেলা পুলিশের ১০০ জন সদস্য, পার্বত্য জেলার ৩০০ জন সদস্য, এপিবিএনের ৩৩০ জন সদস্য, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ১২২ জন সদস্য এবং র‍্যাবের ৩৭১ জন সদস্যসহ সর্বমোট ৩ হাজার ১৮৩ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। এছাড়া সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে চারবার এই এলাকায় অভিযান চালানোর চেষ্টা করা হলেও সফল হওয়া যায়নি। এবার পঞ্চমবারের মতো অভিযান চালিয়ে যৌথ বাহিনী সফল হয়। একই সঙ্গে এলাকায় একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প ও র‍্যাবের একটি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল। প্রায় ২০০৩ সাল থেকে একটি চক্র সরকারি নিয়মকানুন উপেক্ষা করে এখানে অবৈধভাবে জমির কাগজ তৈরি, জমি দখল ও হস্তান্তরের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। পরিস্থিতি এমন ছিল যে, সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এলাকায় প্রবেশ করতে ভয় পেত।

Share This