ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ফিলিপাইনের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সম্মতি হয়েছে। মঙ্গলবার ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লায়েন এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। ওই আলোচনায় দুই পক্ষ একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছে।
রয়টার্স জানায়, ইইউ ও ফিলিপাইনের মধ্যে এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা বেশ কয়েক দফায় হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের মে মাসে ষষ্ঠ দফার আলোচনা শেষ হয়।
ওই দফায় পণ্যবাজারে প্রবেশের সুযোগ, সরকারি ক্রয় এবং বাণিজ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। ইইউ ও ফিলিপাইনের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কও বেশ বড়। ২০২৫ সালে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ইউরো। অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো বাড়াতে দুই পক্ষই একটি বিস্তৃত ও ভারসাম্যপূর্ণ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির জন্য আলোচনা চালিয়ে আসছিল।
নতুন চুক্তির ফলে ফিলিপাইনের সঙ্গে ইইউর বাণিজ্য সম্পর্ক আরো সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে ফিলিপাইন ইইউর দেওয়া বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা পেয়ে থাকে। নতুন চুক্তির মাধ্যমে দেশটি সেই সুবিধার পরিবর্তে আরো বিস্তৃত মুক্ত বাণিজ্য কাঠামোর আওতায় আসবে। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই পক্ষের সরবরাহব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ও ফিলিপাইনের বিনিয়োগকারীদের একে অপরের বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।এ ছাড়া পণ্য ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনার সুযোগও তৈরি হবে। এর ফলে দুই পক্ষের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো গভীর হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটি কার্যকর হলে পণ্য ও সেবার বাণিজ্যে বিভিন্ন বাধা কমানো এবং ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর পথ তৈরি হবে। তবে চুক্তিটি কার্যকর করতে পরবর্তী ধাপে এর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।