ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে বন্ধ থাকার কারণে গত এপ্রিলে বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের- বিশেষ করে ভোজ্য তেলের দাম তিন বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)।
শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এফএও জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য হওয়া বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের মূল্যের পরিবর্তন পরিমাপকারী খাদ্যমূল্য সূচক এপ্রিলে টানা তৃতীয় মাসের মতো বেড়ে গড়ে ১৩০.৭ পয়েন্টে পৌঁছেছে, যা গত মার্চ মাসের থেকে ১.৬ শতাংশ এবং ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ২০২২ সালের মার্চ মাসে এ সূচকটি ১৬০.২ পয়েন্টে পৌঁছেছিল, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
এদিকে সয়াবিন, সূর্যমুখী, রেপসিড এবং পাম তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে এফএও-এর এপ্রিল মাসের ভোজ্য তেলের মূল্য সূচক আগের মাসের তুলনায় ৫.৯ শতাংশ বেড়ে ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে এপ্রিল মাসে খাদ্যশস্যের দাম মার্চের তুলনায় ০.৮ শতাংশ এবং গত বছরে একই সময়ের তুলনায় ০.৪ শতাংশ বেড়েছে।
যুদ্ধ ছাড়াও আবহাওয়াজনিত উদ্বেগ, সারের ক্রমবর্ধমান মূল্য বৃদ্ধি এবং জৈব জ্বালানির বর্ধিত চাহিদার কারণে গম ও ভুট্টার মতো ফসলের দামও সামান্য বেড়েছে।
জাতিসংঘের সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ২০২৬ সালে গম চাষের পরিমাণ কমার আশঙ্কা রয়েছে, কারণ সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা কম সার-নির্ভর ফসলের দিকে ঝুঁকছেন।
এফএও জানিয়েছে, ব্রাজিলে জবাইয়ের জন্য প্রস্তুত গবাদি পশুর সংখ্যা সীমিত থাকায় এপ্রিল মাসে মাংসের দাম মার্চের তুলনায় ১.২ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। তবে ব্রাজিল, চীন ও থাইল্যান্ডে পর্যাপ্ত সরবরাহের পূর্বাভাসের কারণে চিনির দাম ৪.৭ শতাংশ কমেছে।
এফএও-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো টোরোরো এক বিবৃতিতে বলেছেন, যুদ্ধজনিত বিঘ্ন সত্ত্বেও কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থা স্থিতিশীলতা দেখাচ্ছে এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় খাদ্যশস্যের দাম আশঙ্কার চেয়ে সামান্যই বেড়েছে।
একটি পৃথক প্রতিবেদনে এফএও ২০২৬ সালের জন্য তার বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্য উৎপাদনের অনুমান সামান্য বাড়িয়ে রেকর্ড ৩.০৪০ বিলিয়ন মেট্রিক টনে উন্নীত করেছে, যা গত বছরের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি।