ভারত সরকার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এন এস রাজা সুব্রামানিকে নতুন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। বর্তমান সিডিএস জেনারেল অনিল চৌহানের স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি। আগামী ৩০ মে জেনারেল চৌহানের মেয়াদ শেষ হবে। দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সুব্রামানি সামরিক বিষয়ক বিভাগের সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে ভাইস অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথনকে ভারতের নতুন নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি ভাইস অ্যাডমিরাল দীনেশ কুমার ত্রিপাঠীর স্থলাভিষিক্ত হবেন। আগামী ৩১ মে শেষ হবে দীনেশ কুমার ত্রিপাঠীর মেয়াদ।
এন এস রাজা সুব্রামানি
লেফটেন্যান্ট জেনারেল এন এস রাজা সুব্রামানি ১৯৮৫ সালের ডিসেম্বরে গাড়োয়াল রাইফেলসে কমিশন লাভ করেন। তিনি ন্যাশনাল ডিফেন্স একাডেমিতে সামরিক জীবন শুরু করেন এবং পরে যুক্তরাজ্যের ব্র্যাকনেলে অবস্থিত জয়েন্ট সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজে অধ্যয়ন করেন। দেশে ফিরে একটি পার্বত্য ব্রিগেডের ব্রিগেড মেজর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে তিনি দিল্লির ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে পড়াশোনা করেন। লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে মাস্টার অব আর্টস এবং মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিরক্ষা অধ্যয়নে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন। ৩৫ বছরের বেশি সময়ের কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কাজ করেছেন। কাজাখস্তানের আস্তানায় ভারতীয় দূতাবাসে প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
কর্নেল পদে থাকাকালে সেনা সদর দপ্তরের এমএস শাখায় সহকারী সামরিক সচিব এবং পরে পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড সদর দপ্তরে কর্নেল জেনারেল স্টাফ (অপারেশনস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জম্মু ও কাশ্মীরে রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের একটি সেক্টরের ডেপুটি কমান্ডার হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন।
ব্রিগেডিয়ার পদে পদোন্নতির পর তিনি সাম্বায় ১৬৮তম পদাতিক ব্রিগেডের নেতৃত্ব দেন। পরে সেনা সদর দপ্তরে সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের উপ-মহাপরিচালক (ডিডিজিএমআই) এবং পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল স্টাফ (অপারেশনস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৩ সালে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল যোগেন্দ্র দিমরির স্থলাভিষিক্ত হয়ে তিনি সেন্ট্রাল কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ হন। এক বছর পর সেনাবাহিনীর ৪৭তম ভাইস চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব নেন। অবসরের পর তিনি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ সচিবালয়ের সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দেশের প্রতি বিশেষ অবদানের জন্য তিনি পরম বিশেষ সেবা পদক, অতি বিশেষ সেবা পদক, সেনা পদক এবং বিশেষ সেবা পদকে ভূষিত হয়েছেন।
কৃষ্ণ স্বামীনাথন
স্বামীনাথন ১৯৮৭ সালে ভারতীয় নৌবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। তিনি খাদকওয়াসলার ন্যাশনাল ডিফেন্স একাডেমি, যুক্তরাজ্যের শ্রীভেনহামের জয়েন্ট সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ, করঞ্জার কলেজ অব নেভাল ওয়ারফেয়ার এবং যুক্তরাষ্ট্র নেভাল ওয়ার কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
অতি বিশিষ্ট সেবা পদক ও বিশিষ্ট সেবা পদকপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তা তার কর্মজীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল, স্টাফ ও প্রশিক্ষণমূলক দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মিসাইল ভেসেল আইএনএস বিদ্যুৎ ও বিনাশ, মিসাইল করভেট আইএনএস কুলিশ, গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার আইএনএস মহীশূর এবং বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রমাদিত্যের কমান্ডে ছিলেন।
রিয়ার অ্যাডমিরাল পদে উন্নীত হওয়ার পর তিনি কোচির সাউদার্ন নেভাল কমান্ডে চিফ স্টাফ অফিসার (প্রশিক্ষণ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
তিনি ইন্ডিয়ান নেভাল সেফটি টিম গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরে ফ্ল্যাগ অফিসার সি ট্রেনিং এবং ওয়েস্টার্ন ফ্লিটের ফ্ল্যাগ অফিসার কমান্ডিং হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়া তিনি ভারত সরকারের অফশোর ডিফেন্স অ্যাডভাইজরি গ্রুপের ফ্ল্যাগ অফিসার এবং অফশোর সিকিউরিটি অ্যান্ড ডিফেন্সবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন।
মুম্বাইয়ে ৪৬তম ভাইস চিফ অব নেভাল স্টাফ এবং দিল্লিতে নৌ সদর দপ্তরে কন্ট্রোলার অব পার্সোনেল সার্ভিসেস ও চিফ অব পার্সোনেল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি ওয়েস্টার্ন নেভাল কমান্ডের ফ্ল্যাগ অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ হিসেবে কর্মরত আছেন।
দেশের সেবায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে অতি বিশিষ্ট সেবা পদক ও সেনা পদক প্রদান করা হয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি