ফেনীতে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে গ্রাহকদের হয়রানি এবং তাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মেসার্স আল-আমিন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী হাবিবুর রহমান মজুমদারের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিনিয়োগের টাকা পরিশোধের পরও তাদের কাছ থেকে নেওয়া চেক ও অন্যান্য কাগজপত্র ফেরত না দিয়ে উল্টো চেক ডিজঅনারের মামলা করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, হাবিবুর রহমান কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বিজয়করা সাতচর গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে। বর্তমানে তিনি রাজধানীর রমনা থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের (পার্ট) শান্তিনগর নিউ সার্কুলার রোডের ৮৫৪ নম্বর আয়শা সিটি কমপ্লেক্সের ঠিকানা ব্যবহার করেন বলে ভুক্তভোগীদের দাবি। তবে ওই ঠিকানায় তার প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজধানীর শান্তিবাগ এলাকায় ‘উইন মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড’ (রেজিস্ট্রেশন নম্বর-০১০০২)-এর মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র ও কিস্তিভিত্তিক বিনিয়োগের কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে কেউ কেউ মূল টাকা ও মুনাফা পরিশোধ করার পরও তাদের দেওয়া ব্ল্যাংক চেকসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ফেরত দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে এসব চেক ব্যবহার করে ফেনী ও ঢাকায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এভাবে এ পর্যন্ত ২০টিরও বেশি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় কয়েকজন নারী-পুরুষ কারাগারেও ছিলেন। অনেকে মামলার ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী জানান, ২০২৪ সালে তার কাছ থেকে ৮ লাখ টাকার একটি চেক নিয়ে মামলা করেন হাবিব। পরে ঢাকায় হাবিবকে পাওয়া গেলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। তখন মামলা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১২ লাখ টাকার একটি চেক দিয়ে মুচলেকা দেন তিনি। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়নি বলে অভিযোগ ওই ভুক্তভোগীর।
ফেনী জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ও একটি মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সবুজ বলেন, তার মক্কেল নিজেকে ক্ষতিগ্রস্ত দাবি করছেন। এ ঘটনায় হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন নয়ন বলেন, বিভিন্ন মাল্টিপারপাস প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের চেক ফেরত না দিয়ে মামলা করার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীরা চাইলে আইনগতভাবে প্রতিকার চাইতে পারেন।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বর্তমান কার্যক্রম ও ব্যবহৃত ঠিকানাগুলো নিয়ে ভুক্তভোগীদের অভিযোগের বিষয়ে হাবিবুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, দেশের বিভিন্ন এলাকায় কিছু মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ বা বহুমুখী সমবায় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ এবং পরবর্তীতে অর্থ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বৈধ নিবন্ধন ও কার্যক্রম সম্পর্কে যাচাই করে বিনিয়োগ করা জরুরি